খেলাধুলা

ক্রিকেটারদের দু:সময়ের আপনজন ‘মাশরাফি’

জীবনের উথ্থান পতন নৈমিত্তিক বেপার। আজ টপ তো কাল জিরো। ক্রিকেটার সহ সকল খেলোয়ার সহ তারকাদের জীবনে এটি আরো বেশি পরিলক্ষিত হয়। ক্রিকেটাররা দু:সময়ে যখন একা হয়ে পড়েন তখন তাদের পাশে কাউকে পাওয়া যায় না।

একা একা যখন বিষাদগ্রস্থ্য থাকেন তখন অন্য কাউকে পাশে না পেলেও ব্যতিক্রমিভাবে পাশে পাওয়া যায় মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। কেননা কখনোই খালি হাতে ফিরান না তিনি।

কোন ক্রিকেটার বিপদে পড়লে সবার আগে এগিয়ে আসে মাশরাফি। তেমনি বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটার যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বিতারিত দল থেকে । ঠিক সেই সময়টাতে কোচের মত তাদের দলে ফেরাতে প্রশিক্ষন দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

দুই ক্রিকেটার হলো, জুবায়ের ও শাহাদাত। তাদের মধ্যে লেগ-স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন ও গৃহকর্মী পেটানোর অপরাধে জেল খাটা পেসার শাহাদাত হোসেন বিসিবির কোনো পরিকল্পনায় নেই।

তাইতো তাদের বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তারা দু’জন ই নয় পরামর্শ দিচ্ছেন বন্ধু আবদুর রাজ্জাক, তুষার ইমরান, শাহরিয়ার নাফীসদেরও।

মিরপুর একাডেমি মাঠে বুধবার ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন তামিম ইকবাল। বোলার জুবায়ের। ছিলেন শাহাদাত হোসেনও।

শাহাদাত বলেন, ‘আমি প্রায় ১২ কেজি ওজন কমিয়েছি। মাশরাফির পরামর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’ তামিম বলেন, ‘শাহাদাতের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে।’

২০১৪ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া লেগ-স্পিনার জুবায়ের হারিয়েই গিয়েছিলেন। গত বছর বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে অনুশীলন করার জন্য মাশরাফি তাকে ডাকেন।

জুবায়ের এখন উন্নতি করছেন। মাশরাফির পরামর্শে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে নেট বোলার হিসেবে থাকার সুযোগ পাওয়া জুবায়ের বলেন, ‘মাশরাফি ভাই অনেক সাহায্য করছেন। প্রথমদিকে উনার পরামর্শ বুঝতে পারিনি।

এখন ভাবি তখন যদি পরামর্শ শুনতাম, আজ তাহলে আরও ভালো জায়গায় থাকতাম।’

রুবেল হোসেন, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, তাসকিন আহমেদের মতো অনেকেরই বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক।

তবে এখন একটা জায়গায় কঠোর হয়েছেন মাশরাফি। নেতিবাচক কাজ করে তার সাহায্য চাইলে তিনি ফিরেও তাকাবেন না।

উল্টো কীভাবে শাস্তি হয় তার ব্যবস্থা করবেন। মাশরাফি বলেন, ‘অনেক সময় না বুঝে ভুল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বুঝেশুনে ভুল করলে মেনে নেয়া যায় না।’