খেলাধুলা

২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে চাই: মাশরাফি বিন মর্তুজা

যাঁকে বলে ‘জনতার পুরস্কার’, রূপচাঁদা-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারের পাঠকের ভোটে বর্ষসেরা হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মাশরাফি জানালেন, লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ।

পুরস্কারটা ঘোষণার আগে হলো মজার একটা পর্ব। যেহেতু পাঠকের ভোটে বর্ষসেরার পুরস্কার, যে কজন মনোনীত হয়েছেন, সবার কার্টুনের সঙ্গে ছড়া-পাঠ—হাসিতে ফেটে পড়ল হোটেল সোনারগাঁয়ের পুরো বল রুম। ছড়া শেষ হলে বাংলাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ নামটা বলার আগে একটি বিশেষণ ব্যবহার করলেন, ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক!’ নামটা আর বলার দরকার আছে? রূপচাঁদা-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে পাঠকের ভোটে বর্ষসেরা হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

পুরস্কার নেওয়ার পর উপস্থাপক কাজী সাবির একটু ভড়কে দিতে চাইলেন না মাশরাফিকে, ‘আপনি পাঠকের ভোটে বর্ষসেরা হননি, হয়েছেন উদীয়মান তারকা! দিনে দিনে আপনি তরুণ হচ্ছেন! এই তারুণ্যের রহস্য কী?’ মাশরাফির উত্তরটা হলো আরও সরেস, ‘মেয়ে অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। আমার বাসায় গেলে বুঝবেন আমি বুড়োই হয়ে যাচ্ছি!’

বয়সের দিকে যদি তাকান, মাশরাফি বর্তমান বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়ই হবেন। কিন্তু মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে তাঁর পদচারণে সেটি বোঝা গেলে তো? তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে ছড়িয়ে পড়ে তারুণ্যের দীপ্তি। তিনি চিরতরুণ, চিরসবুজ। অবিরত ছুটে চলার শক্তি আছে বলেই তো ১৭ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার যে প্রায় দেড় যুগ ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াতে পারেন, সেই উদাহরণ মাশরাফিই তৈরি করেছেন। কিন্তু নিয়ম মেনে একদিন থামতে হবে। মাশরাফিরও অজানা সেটি নয়। কোথায় গিয়ে থামবেন, সেটি আজ আলো ঝলমলে অনুষ্ঠানে জানিয়ে রাখলেন অধিনায়ক, ‘১৮ বছর ধরে খেলছি। ইচ্ছে আছে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত যাওয়ার। সবাই দোয়া করবেন। চেষ্টা করি সব সময়ই ফিট থাকার। অনেক চোটে পড়েছি। পাঁচ-ছয় বছর সামলে চলছি। দেখা যাক সামনে কী হয়। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার ইচ্ছে আছে।’

পুরস্কার দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষেই দুই উপস্থাপকের আবদার, তাঁরা সেলফি তুলতে চান মাশরাফির সঙ্গে। কোনো ভণিতা না করেই বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক বললেন, ‘এটা তো রোগ!’ সেলফি তোলার এই ‘রোগে’ নিজেও যে আক্রান্ত, সেটি অস্বীকার করতেও আপত্তি নেই মাশরাফির!

ফেসবুক-টুইটারের এই যুগে সেলফি তোলার ‘রোগে’ আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে মাশরাফি-ভক্তরা মনে-প্রাণে চাইবেন শারীরিকভাবে যেন তিনি কোনো রোগ-চোটে না পড়েন। নইলে মাশরাফির ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ হবে কী করে?-প্রথম আলো