খেলাধুলা

যেভাবে নির্ধারণ হয় বিশ্বকাপের আয়োজক

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথমদিকে বিশ্বকাপের আয়োজক ফিফার নির্ধারিত কংগ্রেসের সভাতেই কোন দেশ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে সেটা নির্ধারণ করে দেয়া হতো। কিন্তু সেসময় বিশ্বকাপ আয়োজক দেশের নির্বাচনগুলো ছিল চরমভাবে বিতর্কিত। কারণ সেই সময় ফুটবলে দুই পরাশক্তি ছিল দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে ছিল একমাত্র জাহাজ যোগাযোগ। কিন্তু দেশগুলোতে যাতায়াত করতে সময় লেগে যেত প্রায় তিন-সপ্তাহ। যাতায়াত সমস্যার কারনেই উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে মাত্র চারটি দল অংশগ্রহণ করে।

এর পরের দুটি বিশ্বকাপ অবশ্য অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপে। ইউরোপের প্রথম বিশ্বকাপের পর অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ১৯৩৮ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করে নতুন দেশ ফ্রান্স। ফান্সের আয়োজন করার সিদ্ধান্তটি চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছিল সেই সময়ে। কারন সেই সময় অন্যান্য দেশগুলো মনে করেছিল বিশ্বকাপ একবার ইউরোপ ও একবার দক্ষিন আমেরিকাতে হবে। এবং এই দুটি মহাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বিশ্বকাপ। একারণে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে এই দুই দলই ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ বর্জন করে।

১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর থেকে সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে নতুন নকশা প্রণয়ন করে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। ইউরোপ ও দক্ষিন আমেরিকার মধ্যে পালাক্রমে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দেয় ফিফা। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৯৮ অবধি ৩০ বছর ফিফা সেই ছকেই বিশ্বকাপ আয়োজন করে আসছিল। ২০০২ সালেই আসে পরিবর্তন। প্রথবারের মতন ফিফা বিশ্বকাপ যৌথ ভাবে আয়োজন করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। যা ছিল এখন পর্যন্ত এশিয়া মহাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপই ছিল প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ যা একাধিক দেশ মিলে আয়োজন করে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায় যা আফ্রিকা মহাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ।

বর্তমানে আয়োজক দেশ নির্বাচন করা হয় ফিফার নির্বাহী কমিটির ভোটের মাধ্যমে। আয়োজক দেশ হতে ইচ্ছুক এমন দেশগুলোকে জাতীয় ফুটবল এসোসিয়েশন ফিফার কাছ থেকে নীতিমালা সংগ্রহ করতে হয়। নীতিমালায় বিশ্বকাপ আয়োজনের সকল করনীয় ধাপ ও চাহিদার বিস্তারিত বিবরন দেয়া থাকে। এগুলো পূরনে সক্ষম হলেই সেই দেশ ফিফার কাছ থেকে আয়োজক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার কাগজপত্র সংগ্রহ করে জমা দিতে পারে। ফিফার একটি প্রতিনিধিদল ঐ দেশ ভ্রমণ করে ফিফার চাহিদা কতটুকু পূরন হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করে একটি রিপোর্ট তৈরি করে।

ভোটের প্রক্রিয়া
সাধারণত ফিফার কার্য নির্বাহী কমিটির ২৪ জন সদস্য নিয়ে আয়োজন করা হয় নির্বাচন। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ২৪ জন সদস্য ভোট দিয়ে থাকেন। আয়োজক দেশের জিততে হলে প্রয়োজন হবে ১২টি ভোটের।

যদি কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে ভোট না পায় তাহলে প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়া পর্যন্ত, কম ভোট পাওয়া দেশগুলোকে বাদ দিয়ে আবারও ভোটাভুটি হবে। যদি ১১টি করে সমান ভোট পড়ে সেক্ষেত্রে ফিফার প্রেসিডেন্টের ভোটই হবে চূড়ান্ত ভোট। তিনি যেই সিদ্ধান্ত নিবেন সেই দেশই পাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ।

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক কে হতে যাচ্ছে?
আজ ২৯শে মে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কোন দেশ বিডে বসতে পারবে সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা- ফিফা। ফিফার কার্যনির্বাহী সদস্যদের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। আগামী ১৩ই জুন মস্কোতে ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই ৪৮ দলের ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হচ্ছে কাতার।