খেলাধুলা

বিশ্বকাপ হবে এমন এক শহরের স্টেডিয়ামে, যেখানে লড়াইয়ে নিহত হয়েছিলো বিশ লাখ মানুষ!

স্পোর্টস ডেস্ক: শহরটি এখন পরিচিত ভলগোগ্রাদ হিসেবে। ৭৫ বছরেরও বেশী সময় আগে যারা সেখানে নিহত হয়েছিলো এখনো তাদের হাজার হাজার দেহাবশেষ সেখানেই পড়ে আছে।

এমনকি তাদের যথাযথ সৎকারও হয়নি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হবে এমন একটি স্টেডিয়াম এমন এক শহরে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে স্ট্যালিনগ্রাদের জন্য লড়াইয়ে নিহত হয়েছিলো প্রায় বিশ লাখ মানুষ।

সৈন্যদের দেহাবশেষ সন্ধানকারী দলের সাথে সেখানে খননকাজ দেখতে গিয়েছিলো বিবিসির একটি টিম।

টিমের একজন এভাবেই বর্ণনা দেন উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিয়ে-

“যখন আমরা একটি নতুন ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করছিলো যেটি নির্মাণ করা হয় বিশ্বকাপের জন্য। তারা তিনজন সৈন্যের দেহাবশেষ খুঁজে পায়। স্ট্যালিনগ্রাদের জন্য যুদ্ধ হয়েছিল।যা এখন ভলগোগ্রাদ হিসেবে পরিচিত। যেটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম বড় রণক্ষত্র। ৭৫ বছর হয়ে গেছে সংঘাত শেষ হওয়ার, কিন্তু সৈন্যদের দেহাবশেষ সেখানেই পড়ে আছে।”

মাঠ
প্রতিবছর আমরা প্রায় এক হাজার সৈন্যের দেহ খুঁজে পাই এবং তাদের যথাযথ সৎকার করি। প্রায় বিশ লাখ মানুষ যুদ্ধে তাদের জীবন হারিয়েছিলো। এটা্ ছিলো স্ট্যালিগ্রাদের দক্ষিণ দিকে। প্রতিরক্ষামূলক আর্কাইভ অনুযায়ী এখানে তুমুল লড়াই হয়েছিলো।

২৫০ এর বেশী সোভিয়েত সৈন্য নিহত হয়েছিলো তারা সবাই এখানেই আছে, তাদের যথাযথা সৎকার হয়নি। আমরা মাত্রই এখানে আসলাম কিন্তু আমরা একটি মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করছি যা সিগন্যাল দেয়। প্রায় পাচঁ মিনিট ধরে খনন করছি এবং এর মধ্যেই একটি গ্রেনেড পেয়েছি। সোভিয়েত নির্মিত এফ-১ গ্রেনেড।

সোভিয়েত নির্মিত এফ-১ গ্রেনেড
“দুদিন আগে আমরা আরও অন্তত তিনটি দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছি এবং এখন আমাকে এগুলো কাগজে লিপিবদ্ধ করতে যদি আমরা কোন দেহাবশেষ পাই, তাই তার চার দিকে সতর্কতার সাথে খনন করি এবং যদি কোন পরিচয়পত্র বা আইডি ট্যাগ পাই সেটা নথিতে যোগ করি।

এরপর আমরা দেহাবশেষগুলো কবরস্থানে নিয়ে দাফন করি। অনেক সময় ভা্বি, কখন আমাদের কাজ শেষ হবে এবং তারপর আমি বুঝতে পারি যে এটি একটি চাকুরী যা কখনো শেষ হবার নয়। আরও সৈন্যরা এখানে শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।”