খেলাধুলা

কোচের ম্যাজিকাল চেয়ারের গল্প

হাসিব অয়ন: কোচের ম্যাজিকাল চেয়ারের গল্প, দিক নির্দেশনা যেকোনো খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এই গুরু দায়িত্বটি পালন করে থাকেন একজন কোচ। কারণ কোচ বিহীন দল নাবিক বিহীন জাহাজের মত। প্লেয়াদের তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়াই একজন কোচের মূল কাজ বলা চলে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ পদে অনেকেই দায়িত্ব পালন করে গেছে। গর্ডন গ্রিনিজ থেকে শুরু এখন পর্যন্ত মোট দশ জন কোচ এসেছিলেন টাইগারদের দায়িত্বে। ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতার মিশ্রণ ছিল বাংলাদেশ দায়িত্ব পালন করে যাওয়া কোচদের নিয়ে।

১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম কোচ হিসেবে বাংলাদেশে দলের দায়িত্বে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার গর্ডন গ্রিনিজ। তার সময়  বাংলাদেশ বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার সাথে সাথে পায় টেস্ট স্ট্যাটাসও। বোর্ডের সাথে মতবিরোধরের দরুন ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের মাঝপথে তিনি বরখাস্ত হন।

এর পরই টাইগারদের দায়িত্বে আসেন সাবেক দক্ষিন আফ্রিকান ক্রিকেটার এডি বারলো। তবে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি তিনি। অস্ট্রেলিয়ান সাবেক ক্রিকেটার ট্রেভর চ্যাপেল ছিলেন এডির উত্তরসূরি।

যার সময় বাংলাদেশ দল ১৯টি ম্যাচের মধ্যে ১৮টিতেই পরাজিত হয়েছিল। এক বছরেরও কম সময় থেকে ২০০২ সালে পদত্যাগ করেন এই কোচ। এরপর দায়িত্ব পান মহসিন কামাল, যিনিও তেমন কোন উন্নতি এনে দিতে পারেননি বাংলাদেশ দলে।

তবে বাংলাদেশ দলের অবস্থার পরিবর্তন হয় অস্ট্রেলিয়ান কোচ ডেভ হোয়াটমোরের আগমনে। ২০০৩ সালে দায়িত্বে আসা এই কোচের অধীনে বাংলাদেশ  দল আলো ছড়াতে শুরু করে। তার সময়েই বাংলাদেশ দল প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।

তার সময় ১১৮ টি ম্যাচ খেলে ৩৫ টিতে জয় লাভ করে। বাংলাদেশের অন্যতম সফল কোচ ছিলেন ডেভ হোয়াটমোর। ২০০৭ সালের জুনে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়েন এই কোচ।

সফলতা যখন হাত মিলিয়েছে টাইগারদের, তখনই কোচের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান জেমি সিডন্স। ২০০৭ থেকে শুরু ২০১১ পর্যন্ত মোট চার বছর কাজ করেন এই অজি ক্রিকেটার।

দলের ক্রিকেটারদের উপর তার অনেক প্রভাব ছিল। সাকিব, তামিম, মুশফিকদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তবে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার কারনে ২০১১ সালের এপ্রিলে তাকে বিদায় নিতে হয়।

জেমি সিডন্স এর বিদায়ের পর বাংলাদেশ দলের সাথে মাত্র ১১ মাস কাজ করেন স্টুয়ার্ট ল। তার থাকাকালীন সময় ২০১২ সালে প্রথম বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল তামিম-সাকিবরা। তবে এশিয়া কাপের পরই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

তারপর টাইগারদের কোচ হিসেবে দেখা যায় ইংলিশম্যান রিচার্ড পাইবাসকে। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডের সাথেও বনিবনা না হওয়ার অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। মাত্র চার মাস দায়িত্বে থাকার পর কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে যান এই কোচ।

আরেক সাবেক অস্ট্রেলিয়ান শেন জার্গেনসেন ও ছিলেন সাকিব তামিমদের দায়িত্বে। ২০১২ সালের নভেম্বরে দায়িত্বে আসা এই কোচ ও বেশিদিন থাকেননি। প্রায় দেড় বছরের মতো ছিল বাংলাদেশ দলের সাথে অবস্থান। ২০১৪ সালের টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তিনিও পদত্যাগ করেন।

সর্বশেষ কোচ হিসেবে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার চান্দিকা হাতুরুসিংহে । ২০১৪ সালের জুনে টাইগারদের দিক পরামর্শকের দায়িত্ব দেয়া হয় হাতুরুসিংহের হাতে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে পরিচিত হাতুরুসিংহে । তাঁর অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ।

সবকিছু যখন ভালোই চলছিল ঠিক সে সময়ই ২০১৭ সালের নভেম্বরে সবাইকে অবাক করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে যান হাতুরু। হাথুরুর বিদায়ের প্রায় সাত মাসের মতো কোচের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে।

টাইগারদের দায়িত্ব নিতে এর মাঝে অনেকে এসেছিলেন। তবে বোর্ডের চাহিদার সাথে মানিয়ে নিতে না পারায় কোচ সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছিলো না।অবশেষে দীর্ঘদিন পর গত মঙ্গলবার সুসংবাদ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ইংল্যান্ডের হয়ে ১১ টি টেস্ট ও নয়টি ওয়ানডে খেলা ১১ বছর কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্টিভ রোডসের সাথে কথাবার্তা এগোচ্ছে। শিগগিরই তিনি ঢাকায় আসবেন এবং বিসিবির সাথে সাক্ষাৎকারে বসবেন।-ক্রিকফেঞ্জি