খেলাধুলা

সেই কৃষক আমজাদের পতাকা উদ্বোধন করলেন জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা

স্পোর্টস ডেস্ক: অন্যান্যবারের মত বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবারও জার্মানির বিশাল পতাকা বানিয়ে রেকর্ড গড়েছেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। জমি বিক্রি করে আমজাদের বানানো সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার লম্বা এই পতাকা মঙ্গলবার উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

মাগুরার নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে মঙ্গলবার এই পতাকার উদ্বোধন করা হয়৷ উদ্বোধনের সময় জার্মান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা ক্যারেন ভিজোরা ও তামারা কবির উপস্থিত ছিলেন৷ আরো ছিলেন মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম৷ এছাড়াও ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামোদী এবং স্থানীয় জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্যর৷ মাঠের চারদিক ঘিরে পতাকাটি খোলা হলেও পুরো পতাকা প্রদর্শন করা যায়নি৷

আমজাদ হোসেন জানান, বিশ্বকাপ শুরু হলে তিনি পুরো পতাকাটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন৷ অনুষ্ঠানে আমজাদ ও দূতবাসের কর্মকর্তাদের ফুলের মালা পরিয়ে দেন জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা৷

২০০৬ সাল থেকে আমজাদ হোসেন ফুটবল বিশ্বকাপের সময় জার্মানির পতাকাবানিয়ে তা প্রদর্শন করেন৷ ২০০৬ সালে এই পতাকার দৈর্ঘ ছিল দেড় কিলোমিটার৷ এরপর পতাকার দৈর্ঘ বাড়তে থাকে৷ ২০১০ সালে পতাকা হয় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ৷ ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং এবারের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে এই পতাকার দৈর্ঘ্য হলো সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার৷

আমজাদ বলেন, ‘এবারের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পতাকা তৈরি করতে গিয়েও আমাকে ১০ শতক জমি বিক্রি করতে হয়েছে৷ তবে এখন কেউ কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন৷ উৎসাহ দেন অনেকে৷ বিশ্বকাপ শুরুর পর পতাকার পুনঃপ্রদর্শনীর সময় জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা আবারো আসবেন৷ তারা এবার আমার বাড়িতেও যান৷’

জার্মানির এই পতাকা বানানোর কাপড় মাগুরায় যায় ঢাকা থেকে৷ আর একেক সময় একেক দর্জিকে দিয়ে  পতাকা তৈরি করান আমজাদ৷ তিনি জানান, ‘এবার ১০ শতক জমি বিক্রি করে তিন লাখ টাকা পাই৷ ঢাকার এক কোম্পানিকে দুই মাস আগে অর্ডার দিয়ে কাপড় আনিয়েছি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায়৷ দর্জিকে সেলাই খরচ দিয়েছি ৬৪ হাজার৷ বানাতে লেগেছে ১৬ দিন৷ আরো অনেক খরচ আছে৷ আমি মাগুরার বাইরে থেকে দর্জি আনি, কারণ, এখানকার দর্জিরা অনেক বেশি টাকা চায়৷’

তিনি প্রতি বিশ্বকাপেই নতুন কাপড় দিয়ে জার্মানির পতাকা বানান৷ আর পুরনো পতাকা যতদূর সম্ভব সংরক্ষণ করে রাখেন৷ আমজাদ হোসেন বিশ্বকাপের সময় কেন জার্মানির পতাকা বানান? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০০৫ সালে আমার এক কঠিন রোগ হয়৷ সে রোগের নাম আমি প্রকাশ করতে চাই না৷ প্রথমে বাংলাদেশ ও ভারতে অনেক টাকা খরচ করে চিকিৎসা করিয়েও আমি সুস্থ হইনি৷ এরপর এক  চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানি থেকে ওষুধ আনা হয়৷ ওই ওষুধ তিন মাস খেয়ে আমি রোগ থেকে মুক্তি পাই৷ এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, জার্মানির ওষুধ খেয়ে আমার রোগমুক্তি ঘটেছে সেই জার্মানির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাবো৷ তাই ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপের সময় প্রথম দীর্ঘ জার্মান পতাকা বানাই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে৷’

আমজাদ জানান, ‘যতদিন বেঁচে আছি, আশা করি প্রতি বিশ্বকাপেই জার্মানির পতাকা বানাবো এবং প্রতিবারই দৈর্ঘ্য বাড়ানার চেষ্টা করবো৷ কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, এটা জার্মানির প্রতি আমার ভালোবাসার প্রকাশ৷