খেলাধুলা

সাব্বিরকে আর কত সুযোগ, নাসিরের প্রতি অবহেলা কতদিন?

স্পোর্টস ডেস্ক: সাব্বিরকে আর কত সুযোগ, নাসিরের প্রতি অবহেলা কতদিন? ২৫, ২৫ এবং ২৪। ভাব্বেন না নতুন করে আবার অংক শেখাতে চেষ্টা করছি আপনাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা একজনের গড় এটি। বর্তমান সময়ে এই গড় খুব নগণ্য। এই তিনটি গড় সংখ্যা বাংলাদেশের সাব্বির রহমানের। টি-টুয়েন্টি, ওয়ানডে এবং টেস্টের ব্যাটিং গড়।

বর্তমান সময়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে কাছাকাছি গড় ধরে রেখেছেন ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি। তিন ফরম্যাটে তাঁর ব্যাটিং গড় ৫০ এর উপরে। বাংলাদেশ ৫০০ রান তাড়া করেও জিততে পারে বলা ব্যক্তিটির ব্যাটিং গড় কোহোলির অর্ধেক।

সাব্বিরের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে এখন পর্যন্ত অনেকবার গবেষণা হয়েছে। কখনো তাঁকে উপরের দিকে খেলানো হয়েছে, কখনো বা মাঝে আবার কখনো একদম লোয়ার অর্ডারে। কিন্ত তাতে কোন লাভ হয়নি। কাছাকাছি তিনটি সংখ্যাই বলে দেয় সাব্বিরকে যেকোন মুহূর্তেই নামিয়ে দেওয়া হোক না কেন সে আসলে একই ধাচের খেলাটাই খেলেন। এই গড়টা আরও বলে দেয়, ম্যাচ রিড করার এবং সিচুয়েশন মোতাবেক খেলার দক্ষতা প্রায় নেই বললেই চলে তাঁর। সাব্বিরকে ব্যাটিং অর্ডারে কখনো সামনে কখনো পেছনে শাফল করে খেলানো হলেও সে আসলে ব্যর্থ।

এবার আসুন দেখি সাব্বির রহমানের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান। সেখানে তিনি ওয়ানডে খেলেছেন ১২৫ টি। এর মধ্যে ৬১ ইনিংস থেকে রান করেছেন ১২৬১ রান। গড় মাত্র ২৮! সেখানেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতন কাছাকাছি গড়। ফার্স্ট ক্লাস টেস্ট ভার্সনে ক্রিকেট খেলে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মাত্র ৩টিতে। সেখানে গড় ৩১!

চলুন এবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ফার্স্ট ক্লাসের দিকে তাকাই। তাদের গড়ের দিকে তাকালে আপনাকে ভড়কে দিবে। লম্বা পরিসরে খেলেন এমএ আগারওয়াল। তাঁর গড় প্রায় ১০৫। ইন্দ্রজিৎ ও জিএইচ বিহারির গড় যথাক্রমে ৭৪ ও ৮৭। এদের ছাড়াও আরও অনেক খেলোয়াড়দের গড় ৫০ এর উপরে। সবচেয়ে অবাক হবেন তাঁরা এখনও ভারতের নীল পোশাক পড়ে মাঠে নামার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। ভারতীয় বোর্ড এখনও তাদের বিবেচনায় করছে না আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য। তাদেরকে এখনো লড়াই চালিয়ে যাওয়া লাগছে।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পুরো উল্টো। যেকোনো সিরিজ শুরুর আগে পর পর ঘরোয়া লিগে কয়েকটা ইনিংস ভালো খেললেই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

বাংলাদেশের বোর্ডকে বুঝতে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোন এক্সপেরিমেন্ট করার জায়গা না। ফার্স্টক্লাস থেকে ভুল ক্রুতি শিখে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষদভাবে প্রয়োগ করার জায়গা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলের বিপদে হাল ধরার জায়গা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আমরা এমন একজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিচ্ছি যার ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যা মাত্র তিনটি।

এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে বারবার উপেক্ষিত হচ্ছেন নাসির হোসেন। ধারাবাহিক পারফরমেন্স করার পরও কোনো এক অজানা কারণে তাকে বারবার দলের বাইরে রাখা হয়। কিন্তু ক্রিকেটীয় দক্ষতা এবং ফিনিসার হিসাবে সব সময়ই নাসির এগিয়ে রয়েছেন নাসির হোসেন।