এক্সক্লুসিভ

আসছে ঈদ, আতঙ্কে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রীরা

দেশজুড়ে বইছে ঈদ আনন্দের সুবাতাস। ঠিক সেই মুহূর্তে সড়ক দুর্ঘটনার আতঙ্কে কাজ করছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রীদের। কারণ গত বছর রোজার ঈদের দুইদিন পরে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানীর গেড়াখোলার পন্ঞ্চবটি এলাকায় ঢাকাগামী সেবাগ্রীনের ১২০০১৪ নম্বর গাড়ীর সাথে খুলনাগামী প্রাইভেট কার ১৪-৩৬৬৩ নম্বরের গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন ও চালক সহ মোট ছয়জন নিহত হয়। এ সময় অন্তত ১৫ জন বাসযাত্রী আহত হয়।

শুধু সেবা গ্রীন লাইন নয়, অন্য বাসও ইদানিং দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। দুর্ঘটনায় সেবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেসও। শুধু ২০১৮ সালেই সেবা গ্রীন লাইন ঢাকা খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ এরিয়ায় ৭-৮ বার দুর্ঘটনা ঘটায়।
নিচে সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের বড় দুর্ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো;

এক, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর গেড়াখোলার পঞ্চবটিতে ২৯ জুন সেবা গ্রীন লাইনের ধাক্কায় মারা যান মাইক্রোবাসের যাত্রী বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী হালিম আকন (৪৩), তাঁর স্ত্রী আসমা বানু (৩৫), ছেলে শিহাব (৮) ও সুজন (১৭) এবং শ্যালক বাদল হাওলাদার (৩২)। বেপরোয়া গতির বাসটির মধ্যে ঢুকে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুই, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর ফরিদপুরের নগরকান্দায় গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে দুই বাসযাত্রী নিহত ও ২৫যাত্রী আহত হয়।

তিন, ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়কের মালেকের বাজারে রাস্তা পারাপারে সময় এক মাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। তার কোলে থাকা সাত মাসের শিশুকন্যা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ওই শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চার, ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চণ্ডিবরদী ব্রিজের কাছে শাজাহান ভূঁইয়া নামে এক মোটরসাইকেল চালক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একটি পার্শ্ব রাস্তা থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মোট্রো ব-১৪-৮৮৮৭) তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক শাজাহান ভূঁইয়া (৩৫) নিহত হন। অপর আরোহী তাঁর স্ত্রী বৈশাখীকে আহত অবস্থায় মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পাঁচ, ২০১৬ সালের অক্টোবরে পিরোজপুরে সেবা গ্রীন লাইন (নং ব-১১-৬০৩৭) ও লোকাল সার্ভিস আল্লার দান দুটো গাড়ীই রং সাইড দিয়ে চলাচল করায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় থানা থেকে প্রায় এক কিঃমিঃ দূরে কালিগঙ্গা নদীর সেতুর উত্তর প্রান্তে দোলা কাউন্টারের কাছে। এসময় আল্লার দান গাড়ীর ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন।

মুকসুদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মাহবুব হাসান বাবর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় মনে ভয় কাজ করে। আবার যদি এমন দুর্ঘটনা হয়। তিনি বলেন, আমরা আশা করবো বাস মালিকরা তাদের লাভের কথা চিন্তা না করে জনগনের শান্তির কথা বিবেচনায় রেখে ভালো সার্ভিস দিবে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে নয়, যাত্রীদের জীবনের কথা মাথায় রেখে বুঝে শুনে গাড়ি চালাতে ড্রাইভারদের নির্দেশ দিবে। বিশেষ করে সেবা গ্রীন লাইনের প্রতি অনুরোধ, আর নয়, বহুত হয়েছে এবার ধামুন।