আন্তর্জাতিক

কিমের দেহরক্ষীরা দুর্ধর্ষ জুডো কারাতে ওস্তাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কালো একটা গাড়ি। তার তিন পাশ ঘিরে ভি-আকৃতি টাইপে দৌড়াচ্ছেন সুট-বুট-টাই পরা একদল সুদর্শন যুবক। মুখে হাসি নেই। কারও সঙ্গে কথা নেই। কালো চশমায় চোখ ঢাকা প্রত্যেকের। এক তাল, এক গতি- একনজরেই বলে দেয়া যায় তারা কারা? উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের দেহরক্ষী।

লক্ষ্য হাসিলে দুর্ধর্ষ, চৌকস এ দলটি প্রথম নজরে আসে দু’মাস আগে। দ. কোরিয়ার ডিমিলিটারাইজড জোন বা বেসামরিকীকৃত পানমুনজামে। দুই কোরিয়ার বৈঠকের সময় প্রথমবারের মতো দক্ষিণের মাটিতে পা রাখেন।

গাড়ি থেকে নামার আগেই চমকে দেন বিশ্বকে। আর সেই চমকটাই ছিল এই (দেহরক্ষী) দল। কিমের গাড়ি ঘিরে এতগুলো মানুষ! গাড়ির গতির তালে সামরিক ছন্দের দৌড়! সবচেয়ে বেশি অবাক হওয়ার বিষয়টি ছিল তাদের চেহারা।

দূর থেকে দেখলে মনে হয় একই ধাঁচের ১২টি রোবট। সেইদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল কিমের দেহরক্ষীদের ছবি। আর দু’মাস পর রোববার দ্বিতীয়বারের মতো ভাইরাল হল।

চায়না এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে অবতরণের পর পরই মার্সিডিজ বেঞ্জ ও লিমুজিনসহ ২০টি গাড়ির একটি বহর সেইন্ট রেজিস হোটেলে নিয়ে যায় কিমকে।

আর গতবারের মতো একই ভঙ্গিতে চলন্ত লিমুজিন ঘিরে জগিং স্টাইলে দৌড়াচ্ছিল তার দেহরক্ষীরা। দেহরক্ষীরা একাধারে জুডো-কারাতে ওস্তাদ ও দুর্ধর্ষ। দেহরক্ষী দলকে ডাকা হয় সেন্টাল পার্টি অফিস-সিক্স নামে। তাদের আনুষ্ঠানিক নাম আলাদা সরকারি কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয় ‘মেইন অফিস অ্যাডজুট্যান্টস’ বলে।

সদস্য বাছাই করা হয় কিছু বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে। যেমন মার্কসম্যানশিপ। অতি দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে বন্দুকের গুলি চালিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পারেন। পাশাপাশি দেখা হয় মার্শাল আর্টের দক্ষতা। দেহরক্ষী বাছাই করার আগে তার পুরো পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হয়।

বেশিরভাগই কিমের নিজ পরিবার বা ক্ষমতাসীনদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়। বাছাইয়ের পর কঠোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যারা সবসময় কিমের কাছাকাছি থাকেন তাদেরও সারাক্ষণ নজরে রাখেন এরা।

দেহরক্ষী দলের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক দু’শ হতে তিনশ’। সাধারণত একজন সদস্য দশ বছর পর্যন্ত কাজ করেন। দেহরক্ষীদের দ্বিতীয় একটি দল আছে, যার নাম গার্ড কমান্ড। এরা কিমের চারপাশে দ্বিতীয় ধাপের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন।