খেলাধুলা

শেষ পর্যন্ত বাদ নেইমার!

স্পোর্টস ডেস্ক: রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু করবে ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত বাদ নেইমার! এ ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব নেইমার নন, পালন করবেন মার্সেলো।

নেইমার, ফিলিপে কুতিনহো, গ্যাব্রিয়েল জেসুসদের সমন্বয়ে গড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগ দুর্দান্ত। পাশাপাশি দলটির রক্ষণভাগও নির্ভরযোগ্য। আর রক্ষণভাগের গুরুত্ব বোঝাতেই আজকের প্রথম ম্যাচের জন্য মার্সেলোকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন কোচ তিতে।

২০১৪ বিশ্বকাপের পর অধিনায়কত্বের বিষয়টি নিয়ে ব্রাজিল দলের মধ্যে েএকটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। নিয়মিত অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে সরিয়ে তৎকালীন কার্লোস দুঙ্গা অধিনায়ক করেন নেইমারকে। কিন্তু ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিতে এক অধিনায়কের রীতি ভেঙে বেছে নেন রোটেশন পদ্ধতি। একেক ম্যাচে তিনি অধিনায়ক করেন একেক জনকে।

ব্রাজিলের সর্বশেষ ২১ ম্যাচের দিকে দৃষ্টি ফেরালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। সর্বশেষ ২১ ম্যাচে ব্রাজিলের অধিনায়কত্ব করেছেন ভিন্ন ১৪ জন খেলোয়াড়। এই সময়ে চোট পেয়ে বিশ্বকাপের দল থেকে ছিটকে পড়া দানি আলভেস অধিনায়কত্ব করেছেন সর্বোচ্চ ৪ ম্যাচে। মিরান্ডা ৩ ম্যাচে, থিয়াগো সিলভা ২ ম্যাচে, নেইমার ২ ম্যাচে।

আজ মার্সেলোও অধিনায়কত্বের আমর্ব্র্যান্ড পরতে যাচ্ছেন দ্বিতীয় বারের মতো। মানে এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার এক ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন।

অধিনায়ক মানেই বাড়তি চাপ। তার ওপর এবার ব্রাজিল রাশিয়ায় এসেছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপের জয়ের চাপ নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে মার্সেলো অবশ্য জানালেন চাপ নিচ্ছেন না তিনি, বরং উপভোগ করতে চান সবকিছু।

‘এটা নেতৃত্বের এমন একটা দিক, যেটা পছন্দ করি। আমি অনুভব করছি, এটা আমি দলের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারব। সবাই দলের জন্য অবদান রাখে।’

‘পিছু ফিরে তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছি, একটা শিশু সমুদ্রের পাড়ে ফুটবল খেলছে, বড় মঞ্চে একজন খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছে-এবং আমি এখন অধিনায়ক। এটা এমন কিছু, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।’

সংবাদ সম্মেলনে উঠেছে পুরানো প্রশ্নও। আলোচনায় গত বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে সেমি-ফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে উড়ে যাওয়া ম্যাচ। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফুল-ব্যাক প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানালেন ভেঙে না পড়ার কথা।

‘এগুলো ফুটবলে হয়। অবশ্যই আমি মনে করি, এটা ভিন্ন কিছু ছিল। অবশ্যই মানসিকভাবে ভেঙে পড়িনি। সেটা হলে আমি আর ফুটবল খেলতাম না। অবসর নিয়ে নিতাম।’

‘আমি একটা লক্ষ্যের খোঁজে আছি এবং চেষ্টা করি, সেটার ওপর দৃষ্টি রাখতে। বিশ্বকাপ আরেকটি চ্যালেঞ্জ, আগামীকাল অন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ আসবে।’

‘মানসিক আঘাত বলে কিছু নেই। এমনকি ভালো কিছু্‌ও আমার মাথায় থাকে না। আমি মন্দ কিছুকে আমার ওপর প্রভাব ফেলতে দেব না।’