খেলাধুলা

আর্জেন্টিনার বিদায়ের কারণ বিশ্লেষণ করলেন ম্যারাডোনা

স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিদায়ের কারণ বিশে¬ষণ করলেন ম্যারাডোনা। দল বিদায়ের কারণ হিসেবে বলেন, গ্রুপ পর্বের হতাশাজনক পারফরম্যানসের পর, দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আশা ছিল খুব অল্পই। তবু নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শেষ ষোলর প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যান অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

তবে সেসব অতীত ইতিহাস মাঠের খেলায় আর খাটেনি। আর্জেন্টিনাকে এক প্রকার দমিয়ে রেখেই ৪-৩ গোলে জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। পুরো টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতায় এই ম্যাচটিও দর্শকসারিতে বসে উপভোগ করেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

বিশ্বকাপ থেকে নিজ দেশের বিদায়ে অন্য সবার মতোই হতাশ ম্যারাডোনাও। ম্যাচশেষে তিনি বিশে¬ষণ করেছেন আর্জেন্টিনার পরাজয়ের কারণ। আর্জেন্টিনার খেলায় মোটেও সন্তুষ্ট নন। ভুল ধরেন ম্যাচের পরিকল্পনাতেও।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা এখানে একটি সিনেমা দেখতে এসেছি, যেখানে নিশ্চিত মৃত্যুর ধারা বিবরণী পাঠ করা হয়। আমার খারাপ লাগছে এজন্য যে, আরও একটি বিশ্বকাপ চলে গেল কিন্তু আর্জেন্টিনা একটা ধারাবাহিক দল দাঁড় করাতে পারল না।’

ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে সবাই মিলে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে হানা দেয়াতেই যতো ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন ম্যারাডোনা। সবাই মিলে উপরে উঠে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার রক্ষণে এমবাপে গোল করার জন্য অনেক জায়গা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ম্যারাডোনা।

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা অসাবধানতাবশত ফ্রান্সের রক্ষণে হানা দিতে গিয়েছে এবং এমবাপের জন্য নিজেদের রক্ষণে অনেক জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল। বয়সে তরুণ হলেও ক্যানিজিয়ার (১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য) মতো ক্ষিপ্রগতির খেলোয়াড় এমবাপে। প্রথম পেনাল্টিটার সময় (মার্কস) রোহো তাকে ফাউল করার অনেক সময় পেয়েছিল। কিন্তু তা না করে তাকে যেতে দিল এবং উপায় না পেয়ে বক্সের মধ্যেই ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দিল। রোহোর দায়িত্ব অবশ্যই এটা ছিল না।’

এ সময় ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফরমেশন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ম্যারাডোনা। বলেন, ‘মস্কো থেকে কাজান যাওয়ার আগেই জানা গিয়েছিল আক্রমণভাগ সামলাবেন পাভল, ডি মারিয়া ও মেসি। আমার মনে হয় না তারা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। তারা মূলত গোল বানিয়ে দেয়ার কাজটি করে, গোল করার কাজ তো তাদের নয়।’

আক্রমণভাগের ব্যর্থতার ব্যাপারে ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমরা জানি না কীভাবে আক্রমণ সাজাতে হয়। বল যখন আমাদের পায়ে থাকে তখন যেন আমরা নিজেদের কাজটাও ভুলে যাই। অন্যদিকে ফ্রান্সে দেখুন, তাদের হাতে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। আর্জেন্টিনার কখনোই এটি ছিল না।