Uncategorized

উইন্ডিজ সফরে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি

স্পোর্টস ডেস্কঃ যেকোন সিরিজের পর প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির খাতাটা সামনে দিয়ে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেটের ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির খাতাটা কখনও খালি থাকে আবার কখনও প্রাপ্তিতে ভরপুর থাকে। যাই থাকুক, এই প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসেবটা যে শুধু বিসিবিই রাখে তা কিন্তু নয়। এটা মিডিয়াও চুলচেরা পর্যালোচনা করে। যেমন এবার উইন্ডিজ সফর শেষে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসেবটা বেশ ভাল ভাবেই করেছে মিডিয়া। এবারের সফরে বাংলাদেশ যতোটা লজ্জিত টেস্ট সিরিজে, ততোটাই গর্বিত ওডিআই আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে। টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হার, ওডিআই সিরিজে ২-১ আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় সে প্রমানই বহন করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২১৯ রানে হার! তাতে ব্যক্তিগত কারিশমা বলতে ব্যাটসম্যান হিসেবে নুরুল হাসানের ফিফটিই (৬৪ রানে আউট) এক মাত্র নক্ষত্র। আর বল হাতে দুই ইনিংসে সফল হয়েছেন পেসার আবু জাহেদ ৩, মিরাজ ৩, সাকিব আল হাসান ২ উইকেট শিকার করে। দ্বিতীয় টেস্টে সাকিবের ২য় ইনিংসে ৫৪ রানের ফিফটি, বল হাতে আবু জাহেদের দুই ইনিংসে ৪টি আর মিরাজের ৭ আর সাকিবের ৬ উইকেট শিকার উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় টেস্টে হার ১৬৬ রানে। দুই টেস্টে প্রাপ্তি বলতে ব্যাট হাতে নুরুল আর সাকিবের ফিফটি, বল হাতে জাহেদের ৭, মিরাজের ১০ আর সাকিবের ৮ উইকেট ব্যক্তিগত প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে।

এরপর ওডিআই সিরিজের ১ম ম্যাচে ৪৮ রানের জয়। ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স বলতে তামিম ইকবালের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি। ১৩০ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম, যা ১৯৮৫ সালে দুবাইতে ওপেনার জাভেদ ওমর ওপেন করতে নেমে শেষ অবদি অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন তামিম বাংলাদেশী দ্বিতীয় ওপেনার হিসেবে। অপর দিকে সাকিবও সেঞ্চুরি মিস করলেন, ৯৭ রানে ক্যাচ আউট। বল হাতে মাশরাফি ৪, মুস্তাফিজ ২ আর মিরাজের ১ উইকেট প্রাপ্তি ছিল সিরিজ জেতার আগাম ঘোষণা। দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচে নিশ্চিত জয়, কিন্তু ভূল তো ভূলই, নিজেদের ভূলে ৩ রানে হার হজম। তামিমের ৫৪, সাকিবের ৫৬ আর মুশফিজের ৬৪, তিন তারকার তিন ফিফটি। বল হাতে সাকিবের ২, রুবেলের ৩, মাশরাফির ১, মিরাজের ১ উইকেট শিকার করেন। এর পর তৃতীয় ও শেষ ওডিআই সিরিজে তামিমের ১০৩ রানের সেঞ্চুরি, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ৬৭, বল হাতে মাশরাফি ১, মিরাজ ১, মুস্তাফিজ ১ ও রুবেল ১ উইকেট শিকার করেন। তিন ওডিআই ম্যাচে তামিমের ২ সেঞ্চুরি-১ ফিফটি দিয়ে সংগ্রহ ২৮৭, সাকিবের ৩ ম্যাচে রান ১৯০, মুশফিকের ১১০ আর মাহমুদুল্লাহর ৩ ম্যাচে সংগ্রহ ১১০ রান। বল হাতে অধিনায়ক মাশরাফির ৬, মুস্তাফিজ ৩, সাকিবের ২, রুবেলের ৪, মিরাজের ৩ উইকেট শিকার প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে।

সিরিজের শেষ পর্বে টি-টোয়েন্টি পর্ব। ১ম ম্যাচেই ৭ উইকেটে হার। ১ম ম্যাচে ব্যাট হাতে রান প্রাপ্তি বলতে মাহমুদুল্লাহর ৩৫ই সেরা! বল হাতে মুস্তাফিজের ২টি আর রুবেলের ১টি উইকেট বলার মতো পারফর্মেন্স। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২ রানের জয়ে তামিমের অংশ্রগ্রহণ ৭৪ আর সাকিবের ৬০। বল হাতে মুস্তাফিজের ৩, নাজমুল ইসলামের ৩, সাকিবের ২ আর রুবেলের ১ উইকেট শিকার উল্লেখযোগ। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৮ রানের জয়ে তামিমের সংগ্রহ ২১, লিটন দাসের ৬১, সাকিবের ২৪, মুশফিকের ১২ আর মাহমুদুল্লাহর অপরাজিত ৩২ রান। বল হাতে মুস্তাফিজের ৩টি, সাকিব, সৌম্য, রুবেল আর রনি প্রত্যেকেই ১টি করে উইকেট পকেটে জমা করেন। তিন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রাপ্তি বলতে মাহমুদুল্লাহ, তামিম, সাকিব আর লিটন দাসের ফিফটি, বল হাতে তিন ম্যাচে প্রাপ্তি মুস্তাফিজের ৮, রুবেলের ৩, সাকিবের ৩ উইকেট শিকার।

আরও পড়ুন

স্যালুট প্রবাসী বাঙালিদেরও -মাশরাফি

Syed Hasibul

সৈয়দ আশরাফ,প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ‘গরিব’

Syed Hasibul

সিরিজ শুরু আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল