খেলাধুলা

ক্রিকেটে ১০ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটে ভালো সময় যেমন আসতে পারে তেমনি খারাপ সময়ও আসতে পারে। সাফল্যের সময় যেমন অতি আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই তেমনি সুযোগ নেই পরাজয়ের হতাশা আঁকড়ে ধরে বসে থাকার। নতুন সূর্য উঠবে বলেই তো রাতের আঁধার নামে। তাই এখন থেকেই আগামীর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

আর সেই প্রস্তুতির জন্য তৈরি রাখতে হবে ‘ব্যাকআপ’ ক্রিকেটার। কেননা এক সাকিব-মাশরাফি-রিয়াদরা সারা জীবন ক্রিকেট খেলবেন না। একদিন অবসর নেবেন। আর তাঁরা না থাকলে কি হতে পারে তা আমরা সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই দেখে আসছি।

তাই গতিময় ক্রিকেটের সাথে তাল মেলাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের যে ১০ টি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, তা হলো

*টেস্টে আলাদা স্কোয়াড তৈরি করা। এক্ষেত্রে শাহরিয়ার নাফিস, আশরাফুল, সোহাগ গাজী, তুষার ইমরান, আরাফাত সানীদের মতো অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে। নতুন কিছু মুখকেও তাদের পারফর্মের ধরন বুঝে টেস্টে রাখা যেতে পারে। যেমন: শান্ত, নাঈম হাসান।

*সৌম্য,সাব্বির,আরিফুল বা অন্য যারা পাওয়ার হিটার হিসেবে দলে আছে তাদের নিয়ে বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। অর্থাৎ দ্রুত রান তোলার বিষয়ে যারা কার্যকর এমন প্লেয়ারদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা প পরিচর্যা করতে হবে।

*মাশরাফিকে অনেকেই বুড়ো তকমা দিয়ে থাকে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? মাশরাফির ফিটনেস যথেষ্ট ভালো। আর তিনি সম্প্রতি টেস্টে ফেরার আগ্রহ দেখিয়েছেন। যদি টেস্টের ফিটনেসটা কাজে লাগিয়ে আরও কিছু বছর ওয়ানডে খেলে তাহলে দলটা একটা ‘রিদমে’ থাকবে।

*বিপিএল এর বাইরেও আলাদা করে শুধুমাত্র দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি টি২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেন দেশীয় খেলোয়াড় নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পায়।

*অনূর্ধ্ব-১৯ ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে বেশী বেশী সিরিজ খেলিয়ে পরিপক্ব করে তুলতে হবে। যেন পাইপলাইন শক্ত হয়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট আবার চালু করতে হবে।

*পেসবান্ধব উইকেট, স্পিন উইকেট, ফ্ল্যাট উইকেট, স্লো উইকেট, ঘাসের উইকেট। সবধরনের উইকেট গুলা দেশের বিভিন্ন ভেন্যু গুলাতে তৈরি করতে হবে যেন খেলোয়াড়রা দেশের বাইরে গিয়ে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।

*রুবেল মুস্তাফিজ ছাড়া আরও দুই-তিনজন পেসার তৈরি করতে হবে। যারা ভিন্ন ভিন্ন ভেরিয়েশনে বল করতে পারেন।

*খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে আলাদা ভাবে তদারকি করতে হবে। তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং ফিটনেসের রুটিন বানিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে নজর রাখতে হবে তারা সেটা মানছে কিনা। কারণ, দিনশেষে ফিটনেস অনেক বড় একটি ইস্যু।

*দুইটি সিরিজের মাঝে বেশী দিন বিরতি দেয়া যাবে না। ঘরোয়া লীগের মান উন্নত করতে হবে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সবসময় ঘরোয়া লীগের খেলায় থাকতে হবে।

*অসামাজিক, নিন্দনীয়, অমার্জিত আচরণে দোষী ক্রিকেটারদের বড় মাপের শাস্তির বিধান রাখতে হবে।