খেলাধুলা

‘সিদ্ধান্ত সাকিবের হাতে’

স্পোর্টস ডেস্ক: এবার অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে পারেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৬ মাস পুরোনো আঙ্গুলের ইনজুরির কারণে বর্তমানে তার ব্যাট করতে সমস্যা হচ্ছে। ব্যথার কারণে সব শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন সাকিব। বর্তমান সাকিব যে অবস্থাতে আছেন তাতে অস্ত্রোপচারেই সমাধান দেখছেন বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী। অস্ত্রোপচার না করেও খেলা সম্ভব। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সাকিবের সিদ্ধান্তের উপর।

ক্যারিবীয় সফর শেষ কাল দেশে ফিরতে পারেন সাকিব। তিনি এলেই বোর্ড আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে বলেই জানান চিকিৎসক। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সাকিবকে ফ্লোরিডাতেও একটি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ইনজুরি ম্যানেজ করে চলা সম্ভব। তবে খুব বেশি সমস্যা হলে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। তবে সাবিক দেশে না ফেরা পর্যন্ত কোনো কিছুই বলা যাবে না। আস্ত্রোপচার যদি করাতে হয় সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সাকিব ও বোর্ড। দল দেশে ফিরলে টিম ম্যানেজমেন্ট, মেডিকেল বিভাগ ও সাকিব মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ অন্যদিকে সাকিব এর ইনজুরি নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি হয়নি ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান। তিনি বলেন, ‘সাকিব এখনো দেশে ফিরেনি। যদি অপারেশন লাগে তাহলে সেটি আমি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করবো। ও দেশে ফিরলে সব জেনেই বলতে পারবো আসলে অপারেশন লাগবে কিনা?’

৬ মাস আগে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইনজুরি আক্রান্ত সাকিব মাঠে ফিরেছিলেন নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে। এরপর তিনি চলে যান ভারতে আইপিএল খেলতে। সেখানে দারুণ পারফরমেন্স করে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। এরপর গিয়েছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। তবে বিধিবাম আফগানদের বিপক্ষে তার দল হয় লজ্জার হোয়াইটওয়াশ। এখানেই শেষ নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফরে গিয়ে তার নেতৃত্বে টেস্ট ব্যাটিং লজ্জার রেকর্ড দিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়। এ সময়ে সাকিব ফিরছে না ফর্মে। তবে মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৯৭ রান করেন। সেখান থেকেই ব্যাটে বলে ফর্মে ফিরেন সাকিব। সব শেষ তার নেতৃত্বে ছয়বছর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও জেতে দল।

তাই ফর্মে থাকা সাকিবের প্রয়োজন আগামী মাসে এশিয়া কাপে। এরপরই অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে আসবে জিম্বাবুয়ে ও নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু অস্ত্রোপচার হলে সাকিবকে অন্তত দুই মাস মাঠের বাইরে থাকবে হবে। আবার অস্ত্রোপচার না করলেও থাকবে শঙ্কা। কারণ আগামী বছর ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, সেখানে সাকিব দেশের অন্যতম কাণ্ডারী। যদি শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় তাহলে সেটি কবে নাগাদ হতে পারে এ নিয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি অপারেশন যে লাগবেই তা নয়। সে মূলত ব্যাটিংয়ে সমস্যা অনুভব করছে। সে ব্যাটিংয়ে শতভাগ এফোর্ট দিতে পারছে না। এজন্য ওকে একজন হ্যান্ড সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতে।

ডাক্তার ডেভিড হয় এর তত্ত্বাবধানে ওকে একটা ইনজেকশন দেয়। এরপর প্রদাহ কিছুটা কমে আসে। ফলে গত কয়েক মাস সে মোটামুটি পেইন ফ্রি থেকেই খেলতে পেরেছে। যদিও কিছু সমস্যা থেকেই গেছে। দল ফ্লোরিডা যাওয়ার পর সেখানকার ডাক্তার একটি ইনজেকশন দিয়েছেন। সেখানকার ডাক্তারও বলেছেন এমন ম্যানেজমেন্ট খুবই অল্প সময়ের জন্য কাজে লাগবে। এই জন্য টিম ফেরার পর সাকিব, ম্যানেজমেন্ট ও আমরা সবাই মিলে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ অপারেশন হলে প্রায় দেড়-দুই মাস রিহ্যাবের দরকার পড়বে।’