খেলাধুলা

কলসিন্দুরের ‘নেইমার

স্পোর্টস ডেস্ক: এক বছরের ব্যবধানেই বাংলাদেশ দলের একাদশে স্থান করে নিয়েছেন। এখন তিনি লাল-সবুজ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের অপরিহার্য অংশ। উইংগার পজিশন তার। বারবার বিপক্ষ ডিফেন্স লাইন ভেঙ্গে তছনছ করছেন তিনি। সাথে গোল করতেও দক্ষ। ভুটানের মাটিতে এই পর্যন্ত দুই ম্যাচে তিন গোল তার।

নাম সাজেদা খাতুন। ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের মেয়ে এই সাজেদা। নিজ গ্রামে অবশ্য তাকে সবাই ‘নেইমার’ বলে ডাকে। কাল চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে এই তথ্য জানান নিজেই । সাজেদা বলেন, আমার বল নিয়ে দৌড়ানোর ধরন নাকি ব্রাজিলের নেইমারের মতো। তাই কলসিন্দুর গ্রামসহ আশে পাশে সবাই আমাকে নেইমার বলে ডাকে।

গত বছরই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব -১৫ দলে ডাক পান সাজেদা। তা এই সাফ অনূর্ধ্ব -১৫ ফুটবলেই। সেই সাফে আনু চিং মগিনির বদলী হিসেবে নেমে ভুটানের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। এবার করেছেন তিন গোল। সব মিলিয়ে সাফে তার গোল সংখ্যা চারটি। এছাড়া হংকংয়ের মাটিতে ২টি ও তাজিকিস্তানে গিয়ে করেছেন সম সংখ্যক গোল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভুটানের বিপেক্ষ সেমিফাইনালেও গোল করার প্রত্যয় তার। আশা গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করানো।

আগে গ্রামে তার ফুটবল খেলতে বাধা ছিল। এলাকাবাসীর বক্তব্য ছিল ‘এটা তো ছেলেদের খেলা। মেয়েরা কেন খেলবে’। সাজেদা এখন বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। উল্টো এখন ঢাকা থেকে গ্রামে গেলে তারা তাকে তাকে দেখতে আসে। বাবা-মা আগে তার কথায় পাত্তা না দিলেও এখন বেশ গুরুত্ব দেয়- জানালেন সাজেদা।

তিনটি বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল খেলেছেন কলসিন্দুর স্কুলের হয়ে। ২০১৩ তে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন এই স্কুলকে। এই স্কুলের মেয়ে কল্পনার হাত ধরে ফুটবলে আসা। পরে মফিজ স্যার তাকে স্কুল দলে নেন। সাজেদার বক্তব্য, গ্রামে যখন খেলতাম তখন সবাই আমাকে নেইমার বলে ডাকতো। এতে আমি বিস্মত হতাম, এটা আবার কি নাম। পরে বুঝলাম কে এই নেইমার। তার খেলা আমি প্রথম দেখি পাশের বাড়িতে টেলিভিশনে। আমাদের টিভি থাকলেও ডিশ এর লাইন নেই। তাই অন্যের বাড়িতিই খেলা দেখতে হয়।

দশম শ্রেনীর ছাত্রী সাজেদা নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমি আরো লম্বা সময় ফুটবল খেলতে চাই। দিতে চাই দেশকে আরো কিছু।’ জাতীয় দলে স্থান পোক্ত করা সম্পর্কে বললেন, শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল একাদশে প্রবেশের। বেশ কষ্ট করে এক বছরের মাথায় সেরা একাদশে চলে এসেছি। ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে চাই এই স্থান।

২০১১ সালে সাজেদার অভিষেক ফুটবলে। তখন তিনি দেখতেন স্কুলের মেয়েদের ডেকে ডেকে ফুটবলে নিচ্ছেন মফিজ স্যার। তখন তার রাগ হতো, কেন তাকে স্যার ফুটবলে ডাকছে না। তার আত্মবিশ্বাস ছিল, আমিও পারবো। শেষ পর্যন্ত কল্পনাই তাকে নিয়ে যায় দলে। তখন দলে ফুটবলার সঙ্কট ছিল। ফলে ধোবাউড়ার বাইরে খেলতে যাওয়া দলে সুযোগ হয় সাজেদার। আর এখন লালসবুজ জার্সিধারী সেই সাজেদা। তার ফুটবল থেকে অর্জিত টাকা জমা করা আছে। আগামীতে এই টাকায় বাড়ীর কাজ করা হবে, বললেন সাজেদা।