খেলাধুলা

৯ বছর আগে আজকের এই দিনে তামিমের ১৫৪ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিতেছিল বাংলাদেশ

আজকের এই দিনে তামিম ইকবাল এর জন্য বিশেষ একটি দিন কেননা আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে আজকের এই দিনে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। ২০০৯ সালের ১৬ই আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জিতল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো তিন শ’র বেশি রান তাড়া করে জয় লাভ করে বাংলাদেশ দল।

জিম্বাবুয়েতে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে সাকিব আল হাসানের দল। আজ থেকে ঠিক নয় বছর আগে ১৬ই আগস্ট তারিখে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ জিতে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যই ছিল স্বাগতিকদের সামনে।

তবে কাজটি সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। তখনকার জিম্বাবুয়েন ব্যাটসম্যান চার্লস কেভিন কভেন্ট্রি তিন নম্বরে নেমে ১৫৬ বলের অপরাজিত ১৯৪ রান করে ভাগ বসান পাকিস্তানের কিংবদন্তী সাঈদ আনোয়ারের ১২ বছরের আগের রেকর্ডে। ১৬ চার ও ৭ ছক্কার মারে করেন অপরাজিত ১৯৪ রান।

তার ১৯৪ রানের কল্যাণে বাংলাদেশকে ৩১৩ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে। সেসময় বিবেচনায় তামিম-সাকিবদের জন্য এটি ছিল পাহাড়সম রান। কেননা তখনো পর্যন্ত মাত্র তিনবার ৩০০ ছাড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় ইনিংসে অর্থ্যাৎ রান তাড়া করে ৩০০ করা হয়নি একবারও।

তখনকার বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আশরাফুল না পারলেও ইতিহাস গড়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র তৃতীয় বছর কাটানো ২০ বছর বয়সী মারকুটে ওপেনার তামিম ইকবাল।

তখন ওপেনার হিসেবে তামিম বিধ্বংসী রূপের জন্যই বিশেষ পরিচিত হলেও দলের প্রয়োজনে মাত্র ২০ বছর বয়সেই খেলেন পরিণত এক ইনিংস। ১১৭ বলের তৃতীয় উইকেট জুটিতে তামিম-রকিবুল যোগ করেন ১১৯ রান। যেখানে রকিবুলের অবদান ছিল ৫৫ বলে মাত্র ৩৫ রান। জুটির সিংহভাগ রানই আসে তামিমের ব্যাট থেকে।

৬১ বলে পঞ্চাশ করা তামিম নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ১০৫ বলে। বন্ধু সাকিব আল হাসানকে সাথে পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম দেড়শ রান করতে তামিম খেলেন ১৩৫ বল। অর্থ্যাৎ ১০০ থেকে ১৫০ রানে পৌঁছতে খরচ করেন মাত্র ৩০টি বল।

বাউন্ডারি নির্ভর ক্রিকেট খেলতে স্বচ্ছন্দ তামিম খেলেন পুরোপুরি পরিণত এক ইনিংস। আউট হন টাইগারদের জয়ের একদম কাছে নিয়ে। ১৩৮ বলে তামিম ১৫৪ রান করে আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের জিততে প্রয়োজন ৩৩ বলে ৩৪ রান। যা কিনা সহজেই করে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমরা।