খেলাধুলা

ক্রিকেট ওপেনারদের তালিকায় সেরাদের কাতারে থাকবেন তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ তথা বিশ্বে ওয়ানডে ক্রিকেটে বর্তমানে ওপেনারদের তালিকায় সেরাদের কাতারে থাকবেন তামিম ইকবাল। ২০১৫ এর পর থেকে তার সব স্ট্যাটিক্স আপাতত তাই বলে। অবাক করা এভারেজ আর ধরে খেলার মানসিকতা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তবে তার স্ট্রাইকরেট নিয়ে একটু সমলোচনা হওয়ায় উচিৎ। কারণ ১৪০+ বলে ১০০+ অথবা ১১০+ ইনিংস কখনোই স্বস্তিদায়ক না। তবে এ ব্যাপারে তামিম নিজেই যথেষ্ঠ জ্ঞান রাখেন। আশাকরি নিজেকে শুধরে নেবেন।

এশিয়া কাপে তামিমের সঙ্গী কে হবেন সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। ইমরুল-আনামুলকে আপাতত বাদ ধরাই যেতে পেরে। মূলত লড়াই টা চলবে লিটন-সৌম্য-মিথুন-মমিনুল এর মধ্যে।

লিটনের প্রসঙ্গে:
উইন্ডিজদের সাথে টি-টুয়েন্টিতে লিটন নিজেকে ধুম-ধারাক্কা ক্রিকেটের জাত ব্যাটম্যান হিসাবে ভালোই চিনিয়েছেন। খেলেছেন দারুণ সব ইনিংস। পাওয়ার হিটিং এর এবিলিটি হতে পারে লিটনের দলে চান্স পাওয়ার প্রধান অস্ত্র। মূলত তামিম শুরুটা ধীরে করায় পাওয়ার প্লেতে অনেকসময় রান কম হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে লিটনের হিটিং এবিলিটি হতে পারে বেশ কার্যকর। হিটিং ছাড়াও ধরে খেলার যথেষ্ঠ ক্ষমতাও রয়েছে লিটনের। তামিম আউট হয়ে গেলে নিজেকে পরিবর্তন করে ধরে খেলার এবিলিটিও তার রয়েছে। তাই তামিমের যোগ্য ওপেনার হিসাবে আমি তাকে সবার উপরেই রাখবো।

সৌম্য প্রসঙ্গ:
সৌম্যকে মনে করা হতো তামিমের যোগ্য উত্তরসূরি। ২০১৫ সালের দিকের সৌম্যকে দেখে জাস্ট একজনের কথায় মনে পড়তো সেটা হলো ‘তামিম ইকবাল’। তামিমের শুরুটাও যে ছিলো এমন দূরন্ত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বদলেছেন সৌম্যও। এখন জেনো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। তবে একটা কথা আছে ‘ফর্ম ইজ ট্যাম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট ‘। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড এর সাথে টি-টুয়েন্টিতে বেশ ভালো খেলেছেন। সে জন্য খানিকটা হলেও নির্বাচকদের নজরে হয়তো সে থাকবেন।

মিথুন প্রসঙ্গ:
যদি সবাইকে অবাক করে মিথুন হয় তামিমের সঙ্গী তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। লিটনকে যদি ফিনিসিং এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ওপেনিং এ মিথুন এর বেশ চান্স আছে। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সিরিজের অন্যতম পার্ফরমার ছিলেন তিনি। সদ্য অনুষ্ঠিত এ দলের ঘরের মাঠের শ্রীলংকা সিরিজেও বেশ সফল ছিলেন তিনি। তাই যদি তামিমের সঙ্গী হিসাবে মিথুনকে দেখা যায় তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

মমিনুল প্রসঙ্গে:
নির্বাচকদের নজরে বেশ ভালো ভাবেই রয়েছেন মিমি। আয়ারল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রের্কডটা ভেঙেছেন মমিনুল। তবে খানিকটা তামিমের মতো ধীরে শুরুর কারণে তাকে ওপেনিং এ বিবেচনায় নাও আনা হতে পারে। তবে রাজশাহীর হয়ে বিপিএলে ওপেনিং এ নিজেকে বেশ ভালো ভাবেই তুলে ধরেছেন মিমি।

তবে এ দল বা জাতীয় দল কোথাও তার জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তার আছে বলে আমার জানা নেই। তাই তাকে ওপেনিং এ কতটুকু বিবেচনায় আনা হবে, সেটাই প্রশ্ন!