খেলাধুলা

ক্লাবের প্রবেশদ্বারে জ্বলজ্বল করছে একটি তোরণ

১৯৭৬ সালে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়েই ক্লাব ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল দিয়াগো মারাডোনার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণ মারাডোনা একসময় হয়ে উঠেছেন উঠেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবলের কিংবদন্তি। বিশ্ব ফুটবলে পরিচিত হয়েছেন ‘ফুটবলের রাজপুত্র’ হিসেবেই। তাই আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সও দিয়েগোর সম্মানে পরবর্তীতে নিজেদের স্টেডিয়ামের নামকরণ করে ‘দিয়েগো মারাডোনা স্টেডিয়াম’।

ক্লাবের প্রবেশদ্বারে জ্বলজ্বল করছে একটি তোরণ। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘২০ অক্টোবর, ১৯৭৬। পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ফুটবলারের অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই’। এই ক্লাবের হয়ে ১৬৭ ম্যাচে মারাদোনার নামের পাশে লেখা রয়েছে ১১৬ টি গোল। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাতই বাধ সাধল ক্লাবের নতুন স্পনসর। সম্প্রতি ‘অটোক্রেডিটো’ নামে একটি আর্থিক সংস্থা লগ্নি করেছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে। আর ক্লাবে এসেই স্টেডিয়ামের নাম বদলের ফরমান জারি করেছে সংস্থাটি। সংস্থার নাম জুড়ে দিয়ে তারা স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ করেছে ‘অটোক্রেডিটো দিয়েগো আর্মান্দো মারাডোনা’। আগামী সপ্তাহ থেকেই চালু হবে এই নতুন নাম।

স্পনসরের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্টেডিয়ামের নামকরণ বিশ্ব ফুটবলে নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে এক্ষেত্রে কিংবদস্তি দিয়েগো মারাডোনার নাম জড়িয়ে থাকায় স্টেডিয়ামের নাম বদলের ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের সমর্থকেরা। ঘটনায় ক্লাবের নতুন স্পনসরের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ক্লাবের এক বর্ষীয়ান সদস্যের কথায়, ‘ যে ক্লাবের স্টেডিয়ামের সঙ্গে দিয়েগো মারাডোনার নাম জড়িয়ে, সেই স্টেডিয়ামের নামবদলের সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই সমর্থন করা যায়না।’

অর্থের পরিমাণ না জানা গেলেও আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের কিট স্পনসর হিসেবে একবছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সংস্থাটি। আর চুক্তিবদ্ধ হয়েই এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে হতবাক সকলেই। রিকেলমে, ক্যাম্বিয়াসোর মত তারকা প্রতিভার জন্ম দিয়েছে যে ক্লাব। মারাডোনার মত কিংবদন্তি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন যে ক্লাবে, সেই ক্লাবে এসে স্পনসরের এমন দাদাগিরি গোছের মনোভাব একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। তবে এবিষয়ে মারাদনার কোনও মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।