বিনোদন

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের ‘ক্যাপ্টেন খান’ মুক্তি পেয়েছে

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের ‘ক্যাপ্টেন খান’ মুক্তি পেয়েছে। দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে হলে। মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়েছে ছবিটি। মুক্তির পরে প্রত্যাশা ও বর্তমান সময়ের হালহকিকত নিয়ে কথা বলেছেন শাকিব খান।

‘ক্যাপ্টেন খান’ মুক্তি পেল। হলের দিক থেকে রেকর্ড গড়েছে। ব্যবসার দিক থেকে প্রত্যাশা কতটুকু?

‘ক্যাপ্টেন খান’ লোকাল একটি সিনেমা। লোকাল হলেও মানের দিক থেকে ভারতের সিনেমার সঙ্গে তুলনা করা যায়। স্বল্প সময়ের মধ্যেও বেশ ভাল নির্মাণ করেছেন আমাদের পরিচালক সুমন। ঈদের আগে খুব বেশি সময় ছিল না। সিনেমার গানগুলোও খুব সুন্দর। যারা সিনেমাটি দেখছেন। প্রশংসাই করছেন। বেশিরভাগ দর্শকই দুই তিনবার দেখবেন বলে আশা করি। ছবিটি বিগ বাজেটের। আর মুক্তির আগেই ব্যবসাসফল। আর হলের কথা বলবো প্রথম থেকেই হাই রেন্টালে দেওয়া হচ্ছিল। এজন্য হয়তো আড়াইশো হয়নি। ব্যবসার দিক থেকে রেকর্ড গড়বে সেটাই প্রত্যাশা।

২০১৪ সালের তামিল ইন্ডাস্ট্রির ‘আনজান’ সিনেমার রিমিক বলা হচ্ছে ‘ক্যাপ্টেন খান’, হলে গিয়ে তার প্রমাণও মিলেছে…

রিমেক হলে সমস্যা কোথায়? হলিউডের সিনেমা বলিউডে অহরহ রিমেক হচ্ছে। সেখানকার দক্ষিণী সিনেমা ১০০ কোটির উপর বাজেট রেখে রিমেক করা হচ্ছে। ব্যবসাসফলও হচ্ছে। এটা তো গ্লোবালই হচ্ছে। আমি একা ও একমাত্র কেউ না যে এমনটা করছি। ভালো কিছু আপনি গ্রহণ করতেই পারেন। এ সিনেমার গল্প ভালো। সেটা বাংলাদেশের ফরমেটে বানানো হয়েছে। ভালো গান আছে। ভালো সংলাপ আছে। সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি আপনি গ্রহণ করতে পারেন বলতে পারি।

অপু বিশ্বাসের পর এখন শবনম বুবলির সঙ্গেও একের পর এক ছবিতে অভিনয় করছেন। একই জুটি বারবার পর্দায় এলে…

আমার নায়িকা কে হবেন তা নির্ধারণের দায়িত্ব প্রযোজক -পরিচালকের। আমি হয়তো কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করি। বুবলির সঙ্গে গত দুই বছরে ছয়টি ছবি করেছি, সবই হিট। হয়তো সে কারণেই আমার সঙ্গে বুবলিকে দেখতে চান প্রযোজক। তবে হ্যাঁ, একই জুটি বারবার পর্দায় দেখলে দর্শক যে বিরক্ত হয়, সেদিকে আমারও খেয়াল আছে। তাইতো নুসরাত ফারিয়াসহ আরও কয়েকজন নতুন মুখ নিয়ে আসছি।

মাঝখানে দেশীয় প্রযোজনায় নির্মিত আপনার ছবিগুলোতে ভারতীয় কলাকুশলীরা প্রাধান্য পেতেন। এখন আবার বাংলাদেশের কলাকুশলীদের নিচ্ছেন। বিষয়টা কী?

দেশীয় কলাকুশলীদের কখনোই ছোট করে দেখিনি। সব সময় চেয়েছি, তাঁরাও কাজ করুক। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে কেউ কেউ রটিয়েছে, আমি নাকি দেশি টেকনিশিয়ানদের ক্ষেত্রে ‘না’ করি। ‘ক্যাপ্টেন খান’, ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’তেও তো বাংলাদেশের চিত্রগ্রাহক, কোরিওগ্রাফার, সংগীত পরিচালক কাজ করেছেন। আমি তো কোনো নাক গলাইনি! শুধু চেয়েছি, সবাই যেন তাঁর সেরাটা দেন।

গেল দুই-তিন বছরে আপনার সিনেমা একের পর এক রেকর্ড গড়লেও, মোটের উপর ‘বাংলা চলচ্চিত্র’ নির্মাণ ভয়াবহভাবে কমে গেছে। এর কারণ কী?

এর অন্যতম কারণ রাজনীতি। এফডিসি হলো একটা শিল্প সংস্কৃতির জায়গা। ওখানে সবাই মিলে গল্প নিয়ে চিন্তা করবেন। সিনেমা নিয়ে ভাববেন নতুন কি করা যায়। যদি একের পর এক একজন আরেকজনের ক্ষতি করার চিন্তা করি। দপ্তরিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সেখানে তো ভাল কিছু হতে পারে না। আমি ভাই সিনেমা করতে চাই। কাজ করতে চাই। আমি কারো সঙ্গে বসে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে পারবো না। সেই সময় আমার নেই। সেই সময়টায় বরং একটা সিনেমা করতে পারলে ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হবে।

বলা হয়, সুপারস্টারের উপর একটা ইন্ডাস্ট্রি দাড়িয়ে থাকে। যেমন আপনার উপর বাংলা চলচ্চিত্র দাড়িয়ে আছে। এত বড় দায়িত্ব কি আপনি সঠিকভাবে পালন করছেন? বিশেষ করে সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে…

এককথায় বললে বলবো না। সবসময় নিজের মনমতো সিনেমা বাছাই করতেও পারি না। তবে এখন অনেকটাই সচেষ্ট হয়েছি। এটাও আপনাদের মানতে হবে। কলকাতায় গিয়ে সিনেমা করছি শুধুমাত্র নিজেকে পরখ করার জন্য। আমি বেশি বাজেট নিয়ে নির্মাতাদের ভালো মানের সিনেমা নির্মাণ করার জন্য সবসময়ই উদ্বুদ্ধ করি। দরকার হয় আমার পারিশ্রমিক কমিয়ে নিবো। আশার কথা ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে।

ভক্তদের অভিযোগ, আপনি চাইলেই ছবির মান আরও ভালো করতে পারেন। কিন্তু সেদিকে আপনার নজর কম!

কে বলল! পাঁচ বছর ধরে সিনেমার গান হিট হচ্ছে। সংলাপও হিট হচ্ছে। বাজেট বেড়েছে। ছবির কালার, গল্প বলার ধরন বদলেছে। আমার ‘শিকারি’, ‘নবাব’, ‘হিরো দ্যা সুপারস্টার’ বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছে। ‘সুপার হিরো’ও ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পেয়েছে। আমি আমার চেষ্টা করছি। হলেও মানুষ যাচ্ছে। এখন শুধু নতুন দিনের চিন্তা করতে হবে।

শোনা যাচ্ছে বলিউডে অভিনয় করতে যাচ্ছেন, আপনার মুখ থেকে সত্য মিথ্যা জানতে চাচ্ছি..

হ্যাঁ। কথাটা পুরোপুরি মিথ্যে নয়। তবে এটুকু আশা দিচ্ছি যে করতে হবে বলে যেকোনো একটা সিনেমায় অভিনয় করবো না। বাংলাদেশের মান রেখেই যদি ভালো কোন সিনেমার অফার পাই। তবেই করবো।

টালিগঞ্জে আপনার অবস্থান কতটা পোক্ত?

গেল ঈদে কলকাতায় ‘ভাইজান এলো রে’র মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেছে, শাকিব শুধু বাংলাদেশের নয়, দুই বাংলার। ভারতের আসাম ও কলকাতায় দারুণ ব্যবসা করেছে ছবিটি। সেখানকার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছবিটিকে হিটের তকমাও দিয়েছে। প্রযোজক অশোক ধানুকা এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, তিনি যতটুকু আশা করেছিলেন তার দ্বিগুণ পেয়েছেন। আর সে কারণেই আমার সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছেন। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসও আমাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করছে। আমার সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে তারাও চুক্তি করতে চায়। এতেই কি প্রমাণ হয় না বাংলাদেশের মতো সেখানেও আমি সুপারস্টার! ওখানে তখন আমার একটি সিনেমার শুটিং চলছিল। গাড়িতে যখন যাচ্ছিলাম দেখি রাস্তার পাশে আমার বড়বড় বিলবোর্ড। ভিনদেশে এমনকিছু দেখলে সত্যিই নিজের কাছে অন্য কিছু মনে হয়।

এখন যদি আপনার বায়োগ্রাফি নির্মাণে কেউ আগ্রহ দেখায়?

ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে প্রপোজাল দেয়া হয়েছে। কোলকতার প্রডাকশন। তারা বলেছেন দরকার হয় বলিউড থেকে নির্মাতা আনা হবে। কিন্তু এখন আমি আগ্রহী নয়। হয়তো কখনো আগ্রহী হবো।

বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান হাল নিয়ে কী বলবেন?

আমি ছাড়া আরও অনেকেই কাজ করছে। এবার ঈদেও আমার সঙ্গে আরও কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। সবার সিনেমাই দেখুক। এটা দরকার। আর সিনিয়র-জুনিয়র সবার সিনেমা নিয়ে ভাবা উচিত। কাউকে আটকানোর ফন্দি না করে। আমাদের দেশের অনেক লিজেন্ডারি চলচ্চিত্রের মানুষ আছেন। তাদের সকল বিতর্কের উর্ধ্বে থাকতে হবে। তারাই যদি বিতর্কে জড়ায়। তাহলে তো আর কিছু থাকলো না।
সূত্র: বাংলা ইনসাইডার