খেলাধুলা

এবার নতুন মিশনে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

এবার নতুন মিশনে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরেছে টাইগাররা। দীর্ঘদিন পর বিদেশের মাটিতে জিতে ফিরেছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দেশে ফিরেই ঈদের ছুটিতে যান ক্রিকেটাররা। কেউ কেউ আবার মাঠে ফেরেন ছুটি শেষ হওয়ার আগেই। ব্যাট-বল নিয়ে আগেভাগে অনুশীলনে নেমে পড়েন তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েসরা। ছুটির আমেজে ডুবে থাকা মিরপুর শেরে বাংলা মাঠের নিস্তব্ধতা ভাঙে তাতে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাম্প। ঈদের ছুটি শেষে আজ থেকে নতুন মিশনে নামছে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপ আসর সামনে রেখে ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছে বিসিবি ঘোষিত ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল। প্রথমদিনেই ফিটনেস ট্রেনিং দিয়ে শুরু হবে। সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। তবে ক্যাম্পের শুরুতে দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান থাকছেন না। সাকিব হজ করে এখনো দেশে ফিরেননি। আর মাহমুদুল্লাহ রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগে। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা থাকবেন দলের সঙ্গে। মূলত এ ক্যাম্পে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ফর্মের বাইরে থাকা ক্রিকেটার ও তরুণদের জন্য। এর মধ্যে তামিমের ওপেনিং পার্টনার ইমরুল কায়েস মুখিয়ে আছেন এশিয়া কাপের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফর্মে ফিরতে। গতকালই অনুশীলনে এসে তিনি বলেন, ‘নিজেকে সবসময় প্রস্তুত করে রাখি। যখনই জাতীয় দলে সুযোগ পাবো তখন সেই সুযোগটাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। সবসময় নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গেলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। তবে আমি ঈদের ছুটির শুরুর পূর্ব পর্যন্ত অনুশীলন করেছি। মাঝে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলাম। যতদিন আমি এখানে ছিলাম, ততদিন অনুশীলন করেছি।’

ইমরুল কায়েস ১০ বছর ধরে জাতীয় দলে খেললেও এখনো তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি। বিশেষ করে ওয়ানডেতে তার জায়গা একেবারেই নড়বড়ে এখন। ওপেনিংয়ে আস্থা হারিয়ে ইমরুলকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তবুও ভাগ্য সেখানেও দেখেনি আলোর মুখ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট দলে থাকলেও জ্যামাইকা, অ্যান্টিগায় খেলার সুযোগ পাননি এ বাঁহাতি। তারপরও যতদিন খেলেছেন ততদিনে তামিমের সঙ্গে গড়েছেন সর্বোচ্চ জুটি। এরপরও তার নড়বড়ে অবস্থানের কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন বার বার পরিবর্তন হওয়া তার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে। তিনি বলেন, ‘টানা যদি একটা পজিশনে খেলা যায়, তাহলে সেই পজিশনের জন্য নিজেকে মানিয়ে নেয়া যায়। একটু নড়াচড়া হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। একটু সমস্যা তো হয়ই। সবাই খারাপ খেলবে। এইসব নিয়েই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। সবাই একই ধারায় থাকে না। হয়তো আমার ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন হয়।’

অন্যদিকে তামিমের যোগ্য ওপেনারের সন্ধান চলেছে অনেকদিন ধরেই। তরুণদের মধ্যে সৌম্য সরকার, লিটন দাস চেষ্টা করেছেন তিন সংস্করণেই। এনামুল হক বিজয়কে ফিরিয়ে চেষ্টা চলছে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। সুযোগ পাচ্ছেন অনেকেই। তবে শেষ পর্যন্ত কেউই নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। তাই হয়তো ইমরুলের এবারের লক্ষ্য ফের তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধার। কারণ তার বিশ্বাস ওপেনিংয়ে তিনি তামিমের সঙ্গেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি বলেন, ‘যতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা আছে ততদিন নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করবো। আর তামিমের সঙ্গে সবসময় খেলতে ভালো লাগে কারণ আমাদের পার্টনারশিপটা খুব ভালো হয়। আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের পার্টনারশিপটা ভালো হয়েছে এবং অনেক বড় বড় রান করেছি আমরা। যদি আবার সুযোগ হয় তাহলে আবার সেই পারফরম্যান্স ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করবো।’

আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবে এশিয়া কাপ। ৩১ সদস্যের দলে আছেন ইমরুলও। তাই এ সুযোগ কাজে লাগাতে চান ৩১ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘যখন কোনো দলে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে তখন স্বাভাবিকভাবেই দলের পারফরম্যান্স ভালো হয়। আপনারা দেখছেন ওয়ানডে বা শর্ট ভার্সনের ক্রিকেটে আমরা অনেক ভালো খেলছি। এমন প্রতিযোগিতা থাকলে সবাই চেষ্টা করে নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে। এটা একদিক থেকে ইতিবাচক ও আরেক দিক থেকে একটু নেতিবাচকও বটে। একজন খেলোয়াড় যদি এক-দুই সিরিজে বাজে পারফর্ম করে বাদ পড়েন, সেটা তার জন্য কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটু হতাশ হয়ে গেলে ফর্মে ফেরা একটু কঠিন।’