মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ

Loading...

মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞদের হার ও খেলার ধরন প্রমাণ করে দিয়েছে, এশিয়াডে খেলা তরুণেরাই এখন এগিয়ে, শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে একটা কথা শোনা গিয়েছে—‘এশিয়ান গেমস আর সাফের খেলা কিন্তু এক নয়।’ কথাটি ভুল নয়। ফেডারেশনের যুক্তি, তরুণেরা এশিয়াডে ভালো করলেও সাফে দাম দেওয়া উচিত অভিজ্ঞতার। সেই ‘অভিজ্ঞতার পূজারি’ যুক্তিবাদীরা এখন কী ভাবছে, সেটা কাল জানা যায়নি। কিন্তু ফুটবল দর্শকদের হয়তো বোঝা হয়ে গিয়েছে, আর যা–ই হোক কচিকাঁচার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারা অভিজ্ঞদের চেয়ে এশিয়াড মাতানো তরুণেরাই ভালো। গতকাল ম্যাচ শেষে আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডেও।

এশিয়ান গেমসের চার ম্যাচে খেলা প্রায় একই একাদশকে সাফের দলের জন্য এগিয়েই রেখেছেন বাংলাদেশ কোচ, এ নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই। আর গতকাল মামুনুলরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেও প্রমাণ করে দিয়েছেন, তাঁদের চেয়ে তরুণ মাহবুবুর রহমান সুফিল-সাদ উদ্দিনরা পারফরম্যান্সের বিচারে বর্তমানে এগিয়ে অনেক। অন্তত গতকাল মামুনুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গ্যালারিভরা দর্শকের সামনে যা খেলেছেন, সেটা মন ভরাতে পারেনি কারও। মন না ভরিয়ে কার্যকরী ফুটবলও খেলা সম্ভব হয়নি তাদের।

দর্শকদের আগেই জানা ছিল, এশিয়াডে কাতারকে হারানো ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করা ফুটবলারদের নীলফামারীতে দেখা যাবে না। তবুও সে একাদশ থেকে সেন্টারব্যাক টুটুল বাদশাকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাজানো বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে টইটম্বুর হয়ে উঠেছিল গ্যালারি। কিন্তু শুরুতে গোল হজম করা বাংলাদেশ সমতায় ফিরে আসার মতোই খেলতে পারল না। জয় পাওয়ার মতো খেলার কথা টানতে যাওয়া তো বাড়াবাড়ি। বল পজিশনে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা। কিন্তু গোল হওয়ার মতো কোনো মুভ চোখেই পড়েনি ৯০ মিনিটে।

এশিয়াডে সাদ, বিপলু, সুফিলদের খেলা যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের কাছে গতকালের বাংলাদেশকে মনে হতে পারে ‘খুবই সাদামাটা একটা দল’। এশিয়ান গেমসে তরুণেরা পুরো ৯০ মিনিট একই ধাঁচে শক্তিশালীদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে খেলেছে। হার না মানার মানসিকতা নিয়ে অর্জন করে নিয়েছে নৈতিক জয়। সেখানে মামুনুল, ফয়সাল মাহমুদ, শাখাওয়াত রনিদের মতো অভিজ্ঞরা নবীন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল এরিয়াতে প্রবেশ করতেই হাঁসফাঁস। মিডল করিডর দিয়ে রক্ষণভাগ ভাঙার কোনো চেষ্টা নেই। দুই উইং থেকে মুখস্থ ক্রস। প্রতিপক্ষ বক্সে হেড করা বা পা লাগানো খেলোয়াড় কেও আদতে আছে কি না, সেটা দেখার বালাই নেই। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের ভুলে গোল হজম।

এশিয়াডে না খেলা অভিজ্ঞদের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ কোচ গতকালের ম্যাচে সঙ্গে ট্যাগ জুড়ে দিয়েছিলেন, ‘কোন ১০ জন হতে যাচ্ছেন সাফের বাকি সদস্য?’ গতকালের ম্যাচের পর ১০ জন বেছে নেওয়া যে বাংলাদেশ কোচের জন্য এখন সাগর সেঁচে মুক্তা খোঁজার মতো হবে, এটা বোঝাই যাচ্ছে। তবুও ২০ জনের কোটা পূরণ করতে সাফের দলে জায়গা হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি মামুনুল, সোহেলদের মতো অভিজ্ঞদের। তবে কবি হেলাল হাফিজের কথাটাই বোধ হয় একটু ঘুরিয়ে ফুটবল দলের মন্ত্র হওয়া উচিত, ‘এখন যৌবন যার দলে রাখার তার শ্রেষ্ঠ সময়!’

Be the first to comment on "মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*