জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকালে শুরু হচ্ছে সাফের লড়াই

Loading...

স্পোর্টস ডেস্ক: একটি ট্রফির জন্যই লড়াই হবে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ভক্তদের অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে আজ। ঢাকায় প্রস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার মঞ্চও। ৭ দল যোগ দেবে ১২ দিনের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মহারণে। জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকালে শুরু হচ্ছে সাফের লড়াই।

১২তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা উঠছে নেপাল ও পাকিস্তানের লড়াই দিয়ে। বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে তারা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও চ্যানেল নাইন। আর সন্ধ্যায় একই ভেন্যুতে স্বাগতিক বাংলাদেশ লড়বে ভুটানকে। উদ্বোধনী দিনে ‘এ’ গ্রুপের চার দল নামছে মাঠে।

শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে লড়বে ভারত, যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। এই ৭ দলের মধ্যে একটি দল ট্রফি উঁচু করে ধরবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।

১৯৯৩ সালে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপালকে নিয়ে সার্ক গোল্ডকাপ ফুটবল নামে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই টুর্নামেন্টের। চার বছর পর কাঠমান্ডু আসরে নাম পাল্টে হয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এনিয়ে তৃতীয়বার টুর্নামেন্টের আয়োজক বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে প্রথমবার স্বাগতিক হয়েই একমাত্র শিরোপা জিতেছিল তারা। সবশেষ ২০০৯ সালে আয়োজক হয়ে সেমিফাইনালে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সাফে অংশ নিচ্ছে ১৯৯৫ সাল থেকে। শুরুটা চার দলের হলেও আস্তে আস্তে এতে অংশ নেয় ৮ দল। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও ভারতের সঙ্গে সবশেষ যুক্ত হয়েছিল আফগানিস্তান। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি সাফ খেলার পর মধ্য এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সাফ খেলার যোগ্যতা হারায় তারা।

৮ দলের মধ্যে সাফ সাফল্যে সবচেয়ে দাপট ভারতের। ১৯৯৩ সালে প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন তারা। তারপর থেকে আরও ছয়টি শিরোপা জিতেছে ভারতীয়রা। তারা ছাড়াও একবার করে ট্রফি পেয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান।

এবারও সপ্তম ট্রফি জয়ের দৌড়ে ফেভারিট হয়েই নামছে ভারত। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৯৬তম দলটি তৃতীয়বার টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে খেলবে। র‌্যাংকিংয়ের বিচারে তাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে অন্যরা- মালদ্বীপ ১৫০তম, নেপাল ১৬১, ভুটান ১৮৩, বাংলাদেশ ১৯৪, শ্রীলঙ্কা ২০০ ও পাকিস্তান ২০১ নম্বরে।

অবশ্য র‌্যাংকিংয়ের প্রভাব মাঠে পড়ুক চান না কোনও দলের খেলোয়াড় ও কোচ। তারা আভাস দিয়ে রেখেছেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। কঠিন হলেও দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে এশিয়ান গেমসে নক আউটে উঠে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ।

এক আসর বাদ দিয়ে সাফে প্রত্যাবর্তনে ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। ১৯৯৫ সালের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা তো একমাত্র প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। ২০০৮ সালের পর প্রথম শিরোপা স্বপ্ন না দেখলেও লড়ে যেতে চায় মালদ্বীপ।

টানা চারবার গ্রুপ পর্বে ছিটকে যাওয়ার পুনরাবৃত্তি হতে দিতে চায় না ভুটান। উত্তেজনায় ভরপুর এক টুর্নামেন্ট দর্শকদের উপহার দিতে প্রস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার ৭ ফুটবল দল।