যে পাঁচ ক্রিকেটার মাতাবে এবারের এশিয়া কাপ

Loading...

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে ১৪ তম এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। টুর্ণামেন্টে অন্যতম শিরোপার দাবিদার বাংলাদেশ। শেষ তিন অাসরের মধ্যে দুবার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ দল। ২০১২ এবং ২০১৬ এশিয়া কাপে রানারআপ হয়েছিলেন টাইগাররা। কাগজে কলমে ভারতের থেকে বাংলাদেশ দল একটু পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের দিনে বাংলাদেশে যে কোন দলকে হারিয়ে দিতে পারে।

আর সেই জন্য ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জ্বলে উঠতে হবে। সম্প্রতি সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন যদি বল হাতে জ্বলে ওঠেন তাহলে কোন দলই বাংলাদেশকে হারাতে পারবে না। তবে আলাদা ভাবে বাংলাদেশ দলে নজর থাকবে পাঁচ ক্রিকেটারের উপর।

তামিম ইকবাল : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান এবং ওপেনার তামিম ইকবাল। সম্প্রতি সময় দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এই ওপেনার। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০১৫ সালের পর থেকে এই তিন বছরে ৫০ গড়ে রান করছেন তিনি। সদ্য শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুটি ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয় ২০১৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৯০ গড়ে রান করছেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে ২০১৮ সালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে তামিম ইকবাল। ৮ ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি এবং চারটি হাফ সেঞ্চুরি সহ ৯০ গড়ে ৫৩৯ রান করেছেন তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মতো ওপেনিংয়ে তামিমের দারুণ শুরু করতে পারেন তবে বাংলাদেশের জন্য এশিয়া কাপ জয় সহজ হবে।

সাকিব আল হাসান : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। হাতের ইনজুরি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ একটি সিরিজ পার করেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩ নম্বর পজিশনে ব্যাট করে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ৭ ইনিংসে ৫০ গড়ে চারটি হাফ সেঞ্চুরি সহ তিনি করেছেন ৩৫৩ রান।

চারটি হাফ সেঞ্চুরি করল এ বছর তিন রানের জন্য সেঞ্চুরির দেখা পাননি সাকিব আল হাসান। এছাড়াও বল হাতে নিয়েছেন ১১ টি উইকেট। আর তাই এশিয়া কাপের শিরোপা জিততে হলে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে হবে সাকিব আল হাসান কে। ব্যাটিং এবং বোলিং দুই বিভাগেই নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলতে হবে সাকিবকে।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ : বাংলাদেশ জাতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বলা হয় বড় টুর্নামেন্ট এর ব্যাটসম্যান। কারণ বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ক্রিকেটের ২ বড় টুর্নামেন্ট ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেঞ্চুরি করেছেন। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০১৮ সালে ৭ ইনিংসে ৪৩ গড়ে দুটি হাফ সেঞ্চুরি সহ ২১৯ রান সংগ্রহ করেছেন। এশিয়া কাপে ব্যাট হাতে টপ অর্ডারের সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে হবে এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কে।

রুবেল হোসেন : ২০১৮ সালে ক্যারিয়ার সেরা ফর্মে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সেরা পেস বোলার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিংয়ে অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছেন তিনি। মাশরাফি বিন মুর্তজার পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা পেস বোলার তিনি। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ এই পেস বোলার ২০১৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক।

৭ ইনিংসে ৫ ইকোনমিক রেটে ১৪ টি উইকেট লাভ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এর মত রুবেল হোসেন ও বলা হয় বড় টুর্নামেন্টের ক্রিকেটার। আর তাই এশিয়া কাপে মাশরাফি বিন মুর্তজার সেরা অস্ত্র হতে পারেন রুবেল হোসেন।

মুস্তাফিজুর রহমান : মুস্তাফিজুর রহমান এমনই একজন বলার তিনি একাই ঘুরিয়ে দিতে পারেন পুরো টুর্নামেন্টে। যদিও সেরা ফর্মে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু একটু একটু করে নিজের পূর্ণরূপ ফিরে পাচ্ছেন কাটার মাস্টার। যার প্রমাণ তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে রঙিন পোশাকে ছয় ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ১৩ টি উইকেট। এছাড়াও ২০১৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮ ইনিংসে ১২ উইকেট তুলে নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।