ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম

Loading...

এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের দেওয়া ২৬২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৫.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের ফলে সুপার ফোরে এক পা দিয়ে রাখল বাংলাদেশ দল। জয় পাশাপাশি এদিন রান রেট পয়েন্টে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ দল। ১৪৪ রান করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। ইনিংসের প্রথম ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। লাসিথ মালিঙ্গার প্রথম ওভারেই লিটন কুমার দাস এবং সাকিব আল হাসান শূন্য রানে ফিরে যান। এরপরে হাতে ব্যাথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান ওপেনার তামিম ইকবাল।

তবে এদিন শ্রীলঙ্কা দলে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ২০ রানের মধ্যেই জীবন পান মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুন। মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটের ১৩ ওভারে দলীয় ৫০ রান পর করে বাংলাদেশ। দারুন খেলতে থাকা বাংলাদেশ দল ৫২ বলে ফিফটি তুলে নেন মোহাম্মদ মিঠুন।

২০ ওভারের মধ্যেই ১০০ রান পূরণ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। অন্য প্রান্ত থেকে ৬৫ বলে ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। এই দুজনের ১৩২ রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন মালিঙ্গা। আর এরপরই বিপদে পড়ে বাংলাদেশে দল। ৬৩ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মোহাম্মদ মিঠুন।

বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, এবং মোসাদ্দেক হোসেন। দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় এক রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। লাথিস মালিঙ্গা চতুর্থ শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ১ রান করে আউট হয় মোসাদ্দেক হোসেন। পরে ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম কিছুটা সঙ্গ দিয়ে প্যাভেলিয়নের পথে মেহেদি হাসান মিরাজ।

এদিন মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে পারেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা ও। ১৯৫ রানের মাথায় ১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। এটিন যেন একাই লড়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম। এশিয়া কাপের নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ১২৩ বলে। ১০ রানে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হলে ইনজুরি নিয়েই মাঠে নামেন তামিম ইকবাল।

এই সময়টাই ব্যাটিং ঝড় তোলেন মুশফিকুর রহিম। একাই এই সময় করেন ৩৪ রান। আউট হওয়ার আগে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। ১৫০ বলে ১৪৪ রান করে আউট হন তিনি।

২৬২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৩ রানের মাথায় কুশল মেন্ডিস কে গোল্ডেন ডাকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপরে বিধ্বংসী হয়ে উঠা উপল থারাঙ্গা কে আউট করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৬ বলে ২৭ রান করা উপল থারাঙ্গা কে বোল্ড করেন মাশরাফি।

দ্রুতই শ্রীলংকা তৃতীয় উইকেট তুলে নেন বিন মর্তুজা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি। তবে এর পরেই উইকেট তুলে নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কুশল পেরেরা কে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। একবার জীবন পেল ও বেশি দূর যেতে পারেনি দাসুন শানাকা।

দলীয় ৬০ রানের মাথায় রানআউটের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ৩ রান পরেই বোলিংয়ে এসেই নিজের প্রথম ওভারে দ্বিতীয় বলে অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস কে আউট করেন রুবেল হোসেন। ১৬ রান করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রুবেল হোসেন।

ঠিক পরের ওভারেই এসে মেহেদি হাসান মিরাজ তুলে নেন আরো একটি মূল্যবান উইকেট। বিধ্বংসী থিসারা পেরেরা কে ৬৯ রানের মাথায় আউট করেন তিনি। কিন্তু এরপর সুরঙ্গা লাকমাল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে প্রথম বলেই সুরঙ্গা লাকমালের স্টাম উড়িয়ে দেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ১২০ রানের মাথায় শ্রীলংকার নবম উইকেট তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেন। বাংলাদেশের হয়ে শেষ উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান।