ইনজুরিকে হার মানিয়ে দেশের জন্য খেলেছেন তামিমসহ যে ৬ ক্রিকেটার

Loading...

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩ বল খেলেই আঘাত পেয়ে চলে গেলেন মাঠের বাইরে বাংলাদেশে ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তার পর পরই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হল এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেল তামিমের।

এমন অবস্থা্য় বাংলাদেশ রান যখন ২২৯ রান তখন তামিম ছাড়া শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন মোস্তাফিজ। এমন সময় কমেন্টেটরসরাও সাথেই বলে দিলেন অলআউট বাংলাদেশ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এক হাতেই ব্যাটিংয়ে নামলেন তামিম ইকবাল। তাইতো অবাক হয়ে এই যোদ্ধার প্রসংশায় মেতে উঠেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

এরপর সব ইতিহাসের পাতায় লেখায় হয়ে গেল। এমন ঝুঁকি নিয়ে খেলা ক্রিকেটার তালিকায় রয়েছে আরও অনেকে। তারা চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্রিকেট মাঠে লড়াই করেছেন। তুলে ধরা হল এমন পাঁচ ক্রিকেটার অকল্পনীয় ঘটনা৷

তামিম ইকবাল
কব্জির ইনজুরির কারণে মাঠ থেকে সোজা হাসপাতালে। এবার সেখান থেকে খবর এলো, এশিয়া কাপই আর খেলতে পারছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, ওপেনার তামিম ইকবাল। তার কব্জিতে ছিড় ধরা পড়েছে। যে কারণে, তার এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলা আর সম্ভব হবে না। ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজ জানিয়েছিল এ সংবাদ। তবে সব সংবাদকে কিছুক্ষনের জন্য মিথ্যা প্রমান করে শেষ উইকেটে আবারো ব্যাট হাতে নেমে যান তামিম ইকবাল। এক হাতে ব্যাটিং করেন। তবে এটা শুধু এই ম্যাচের জন্যই ছিল সেটা বুঝাই গিয়েছিল। আর সেই সত্যটাই বললেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি জানিয়েছেন, দুই-তিন মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে তামিমকে।

বার্ট সাটক্লিফ
১৯৫৩ জোহানেসবার্গ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকান এক পেসারের বাউন্সারে কপালে চোট পেয়েছিলেন এই ক্রিকেটার৷ চোট এতটাই গুরুতর যে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় তাকে৷ পরে ছাড়া পেয়ে দলের প্রয়োজনে মাথায় ব্যান্ডেজ করে ব্যাট করেছিলেন বার্ট সাটক্লিফ৷ শুধু তাই নয় দক্ষিণ আফ্রিকান এক বোলারের বিরুদ্ধে এক ওভারে ২৫ রান হাঁকিয়েছিলেন আহত বার্ট৷ সেই সঙ্গে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন প্রাক্তন এই নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান৷ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের ক্রিকেটমাঠে এক রুপকথার জন্ম দিয়েছিলেন৷

ম্যালকল মার্সাল
বার্বাডোজ বোলারে সেই কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে৷ ১৯৮৪ সালে হেডিংলি টেস্টে নাটকীয় কামব্যাক মার্সালের৷ ল্যারি গোমেজ ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। অগত্যা, ভাঙা হাত নিয়েই নেমে পড়েছিলেন ম্যালকম মার্শাল। এক হাতে ব্যাট করেও মার্শাল একটা চার মেরেছিলেন, আর গোমেজও তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে নেমে আবার সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন মার্সাল৷

অনিল কুম্বলে
ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে ২০০২ সালে অ্যান্টিগায় চোয়ালে গুরুতর চোট পান৷ সেবার অ্যান্টিগা টেস্টে ব্যাট করার সময় মারভিন ডিলনের বাউন্সারের ছোবলে চোট পেয়েছিলেন কুম্বলে। সাময়িক শুশ্রূষা নিয়ে কুম্বলে আরও ২০ মিনিট ব্যাট করেন আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত। পরে দেখা গেল, যতটা ভাবা হয়েছিল আঘাত তার চেয়ে গুরুতর। চোয়াল ভেঙেছিল কুম্বলের৷ পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘জাম্বো’ বোলিং করতে নামেন। মাথা ও চোয়ালের বেশির ভাগটাই সাদা ব্যান্ডেজে বাঁধা। মাঠের পাশ থেকে ভারতীয় দলের ফিজিও অ্যান্ড্রু লিপাস নিজেই সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলেন। এ অবস্থায় নড়াচড়া না করলেই যেখানে বিপদ সেখানে কুম্বলে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছিলেন। তুলে নিয়েছিলেন লারার মহামূল্যবান উইকেট৷

কলিন কাউড্রে
১৯৬৩ সালে লর্ডস টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসারদের সামনে নাটকীয় ম্যাচ উপহার দিয়েছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল৷ থ্রিলার ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩০১ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা৷ জবাবে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২৯৭ রানে৷ দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ২২৯ রান৷ টেস্ট জিততে চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করতে নেমে ৩১ রানে তিন উইকেট খুইয়ে তখন ইংল্যান্ড ব্যাটিং কেণঠাসা৷এই সময়ই ওয়েস হলসের বলে হাত ভাঙলেন কলিন কাউড্রে৷এরপর ব্রায়ান ও ব্যারিংটনের ব্যাটে ভর করে টেস্ট জয়ের পথে এগিয়ে চলে ইংল্যান্ড৷ শেষটায় অবশ্য দ্রুত উইকেট খুইয়ে ফেললে তাল কাটে৷থ্রিলার ম্যাচে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল আট রান৷ শেষ তিন বলে প্রয়োজনীয় রানের সমীকরণ দাঁড়ায় ছয়রান৷ এসময়ই রান আউট হন ইংল্যান্ডের এক ব্যাটসম্যান৷ সেসময়ই প্লাস্টার হাতে ব্যাট করতে এসেছিলেন কলিন কাউড্রে৷ ম্যাচ অবশ্য শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছিল৷

গ্যারি কার্স্টেন
রাওয়ালপিণ্ডি এক্সপ্রেস শোয়েব আখতারের বিষাক্ত বাউন্সারের ২০০৩-০৪ ক্রিকেট মৌসুমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাহোর টেস্টে নাকে চিড় ধরেছিল গ্যারি কার্স্টেনের৷ ক্রিজে ৫৩ রানে তখন ব্যাটিং করছিলেন কার্স্টেন৷মাঠের রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে পড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান৷নাক ফেটে ঝড়ঝড় করে রক্ত পড়তে শুরু করে৷এরপরই মাঠ ছাড়েন গ্যারি৷হাসপাতালে দশটি সেলাই পরে তাঁর৷ পরে দলের সংকটময় অবস্থা ফের ব্যাট করতে এসেছিলেন ভাঙা নাক নিয়েই৷ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে গুরুত্বপপূর্ণ ৪৬ রান করেছিলেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান৷ম্যাচের পর মজা করে বলেছিলেন, ‘পিচটা দারুণ, আরেকটু হলেই দেশে ফেরার বিমান ধরতে হচ্ছিল!’