Notunshokal.com
বিনোদন

শাকিব খানকে চলচ্চিত্রে নেওয়া হয় শুধু ব্যবসার খাতিরে

বিনোদন ডেস্ক: এদেশে ব্যবসা করতে পারবে না, তাই শাকিবকেও আর অভিনয়ে নেবে না। অর্থাৎ শাকিব খানকে চলচ্চিত্রে নেওয়া হয় শুধু ব্যবসার খাতিরে। এদেশের সিনেমা বাজার ধরার জন্য কলকাতার প্রযোজকেরা অর্থ লগ্নি করা শুরু করে। নামী দামি সব তারকা নিয়ে ছবি তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সবার আগে বেছে নেওয়া হয় শাকিব খানকে। কারণ শাকিব থাকা মানে বাংলাদেশে সেই ছবি হিট।

সম্প্রতি কলকাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজ বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অশোক ধানুকা বলেন, ‘শাকিবের সঙ্গে আপাতত আর কাজ হচ্ছে না। শ্রাবন্তীর সঙ্গে একটা ছবি করার কথা থাকলেও সেটাও আর করছি না। কলকাতার লোকাল প্রোডাকশনে শাকিবকে নিয়ে ছবি বানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শাকিবকে ৬০ লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া সম্ভব না।’  অবশ্য ক’দিন আগেও জানা গিয়েছিল শাকিব এসকে মুভিজকে শিডিউল দিতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা বলেন, শাকিবকে নিয়ে একের পর এক ছবি ওরা করে যাচ্ছিল শুধু বাংলাদেশের বাজার ধরার জন্য। ওরা জানে যে শাকিবের একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা রয়েছে। আবার দেখেন লোকাল প্রোডাকশনে শাকিবকে নেবে না। অর্থাৎ শাকিবের বাজার কলকাতায় এখনও গড়ে ওঠেনি। অর্থাৎ তাঁদের লক্ষ্যই শাকিবকে মূল কাস্টিং রেখে বাংলাদেশের বাজার ধরা।

অর্থাৎ শাকিবকে নেওয়াই হতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বাজার টার্গেট করে, কলকাতার লোকাল বাজার নয়। অশোকা ধানুকার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় শাকিবকে দিয়ে কলকাতায় বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে আনা সম্ভব নয়।  অশোক ধানুকার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে শাকিবের বাজার এখনো সেভাবে তৈরি হয়নি। ইতোপূর্বে কলকাতার প্রযোজকদের দেখা গেছে এদেশে ছবি মুক্তি দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে। এমনকী কলকাতার পরিচালক জয়দীপ মুখার্জি বাংলাদেশের পরিচালক সমিতির সদস্যও হতে চেয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, আসলে কলকাতার প্রযোজকদের বিনিয়োগ কোনো কাজে আসছিল না। বিনিয়োগ করলে দুই দেশের উপকার হবার কথা। কিন্তু কলকাতার জনবল দিয়ে একটি ছবি করে ওরা বাংলাদেশের ছবি হিসেবে দেখাতে চায়। প্রকৃতপক্ষে সেখানে বাংলাদেশের জনবল নেই। যেটা বিনিয়োগ বোর্ডের আইন পরিপন্থী।

তিনি বলেন, এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে যেভাবে বিনিয়োগ করা হয় চলচ্চিত্রেও সেভাবেই বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলে আমাদের দেশের দৃশ্যত উপকার হবে। কিন্তু ওরা বিকল্পপথে বাংলাদেশের বাজার ধরতে চায়। কলকাতার প্রযোজকেরা চলে গেলে চলচ্চিত্রের কোনো ক্ষতি হবে না। বরঞ্চ সরকার র‍্যাপিডলি কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে যেটার কারণে এক দেড় বছরের মধ্যে চলচ্চিত্রের অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।

অশোক ধানুকা বলেন, না, আমরা একের পর এক লস দিয়ে যাচ্ছি। এভাবে ব্যবসা টিকে থাকতে পারে না। ভারতে সিনেমার জন্য আমাদের বিশাল বাজার, সেই বাজার ছেড়ে এখানে এসে আমি ক্রমাগত লস করতে পারবো না। ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকছি।

সম্প্রতি শাকিব খান অভিনীত নাকাব ছবিটি কলকাতা ও বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে ভালো ব্যবসা করলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহগুলো সেখানের ছুটিরদিনেও ছিল একদম ফাঁকা।-কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুন

হ্যাপির প্রথম ছবি শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হলো

Syed Hasibul

হোটেলে ভারতীয় অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত লাশ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

Adnan Opu

হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে টাক ঢেকে সিনেমায় ফিরেছেন বলিউডের যেসব অভিনেতা

Syed Hasibul