খেলাধুলা

‘মুশফিক ভাই’ই নায়ক’

স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কঠিন বিপদে বাংলাদেশ। শুরুতেই আউট হয়ে গেলেন লিটন কুমার দাস এবং সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় ওভারে ইনজুরিতে পড়ে ফিরে গেলেন তামিম ইকবালও। দুই ওভারে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন ঘোর বিপদে বাংলাদেশ, তখনই মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে মিলে দলের হাল ধরলেন মোহাম্মদ মিঠুন।

দলে আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকা ছিল যার নিয়তি। কখনোই ভালো পারফরম্যান্স দেখা না যাওয়া এই ব্যাটসম্যানের ওইদিন দৃঢ়তা দেখে সবাই অবাক। মুশফিকের সঙ্গে ১৩১ রানের জুটি গড়লেন। খেললেন ৬৩ রানের ইনিংস। তিনি আউট হয়ে গেলেও মুশফিক খেলেছিলেন ১৪৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভাঙা হাত নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তো রীতিমত নায়কে পরিণত হন তামিম ইকবাল।

ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। এমন জয়ে সবাই মুশফিক আর তামিমকেই কৃতিত্ব দিচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যে যে মিঠুনের দারুণ অবদান ছিল, সেটা কারও মাথায়ই আসছিল না। মিঠুন ওই জুটিটা না গড়তে পারলে কি অবস্থা হতো বাংলাদেশের? নায়ম মুশফিক আর আলোচিত তামিমের আড়ালেই চলে যান মিঠুন। মানুষ মনেই রাখেনি তার ব্যাটিং।

এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললেন ৬০ রানের আরও একটি অসাধারণ ইনিংস। ওইদিনও মুশফিকুর রহীম খেলেন ৯৯ রানের ইনিংস। এবারও মুশফিকের আড়ালে চলে গেলেন মিঠুন। বার বার পাশ্ব নায়ক হয়েই থাকলেন তিনি। কিন্তু অনেকেই নায়কের মর্যাদা দিচ্ছিলেন মিঠুনকে। কারণ, তিনি দুই ম্যাচে দুটি ভালো জুটি উপহার না দিলে তো বাংলাদেশের জয়ই লেখা হতো না।

বিষয়টা তোলা হলো মিঠুনের কাছে। তার বিচার কি? তিনি নায়ক না পাশ্ব নায়ক? জানতে চাইলে মিঠুন কৃতিত্ব তুলে দিলেন মুশফিকের কাঁধেই। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, মুশফিক ভাই। তিনি যেভাবে শেষ করেছে, আমি সেভাবে শেষ করতে পারিনি। আমি মাঝপথে এসে আউট হয়ে গেছি। পরেরবার এমন অবস্থা হলে চেষ্টা করব অবশ্যই শেষ করে আসার। আমি ওই জায়গা থেকে যদি শেষ করতে পারতাম, তাহলে আমি মেইন রোলে চলে আসতে পারতাম। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’