খেলাধুলা

সাকিবের যত আশা

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর সাকিব আল হাসান আশার কথা শোনাল আশার কথা। আঙুলে প্রচণ্ড ব্যথা আর ইনফেকশন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। ফেরার সময় সেই ইনফেকশন তো নিয়ন্ত্রণে আছেই, সেই সঙ্গে আঙুলের ব্যথাও আর নেই। দুয়েমিলে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই মাঠে ফেরার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। এমনিতে তিন মাসের আগে মাঠে ফেরার কথা নয় এই অলরাউন্ডারের। তবে ভাগ্য সহায় হলে ‘সামনের মাসেও’ মাঠে নেমে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য সে ক্ষেত্রে চোটগ্রস্ত আঙুলের জোরও ফিরতে হবে পুরোপুরি।

চিকিৎসার জন্য গত ৫ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া সাকিব এখন যত দ্রুত সম্ভব আঙুলের শক্তি ফিরে পাওয়ার আশায়, ‘এটি আসলে এমন এক সমস্যা, যেটি কবে সারবে তা নির্দিষ্ট করে বলার উপায় নেই। হতে পারে যে সামনের মাসেও খেলতে পারি আমি। এখন আমার হাতে ব্যথা নেই। খুব ভালো অনুভব করছি। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমার আঙুলের শক্তি কতক্ষণে ফিরে আসে। রিহ্যাবের মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারে। যদি আসে, তাহলে সামনের মাসেও খেলতে পারি।’

সাকিব, ‘রিহ্যাবের পর যদি ব্যথা অনুভব করি, তাহলে আবার অপেক্ষা করতে হবে যে কখন অস্ত্রোপচার করাতে পারব। এটি আসলে খুবই অনিশ্চিত। একটি জিনিস ভালো যে এখন অস্ত্রোপচার না করিয়েও খেলা যেতে পারে। যদি তা-ই হয়, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে সেরা ব্যাপার। কিন্তু এটি আবার নিশ্চিত করেও কিছু বলা মুশকিল। বললাম যেটা, হতে পারে এক মাস পরও খেলতে পারি। আবার ছয় মাসও লাগতে পারে।’

সাকিব, বলেন,‘আশা করি এক মাস পরই খেলতে পারব। তার পরও যেহেতু আঙুলের শক্তি ফিরে পাওয়ার ব্যাপার আছে, এক মাসে হয়তো হবে না। একটু সময় বেশিই লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার আপডেট ভালো। ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে প্রতি সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে ওটা আবার বাড়ল কি না বা অন্য কোনো সমস্যা হলো কি না। অস্ত্রোপচার ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে করা যাবে না। করা যাবে না কারণ ইনফেকশন হাড়ের ভেতরে হলে সেটি সারার সম্ভাবনা নেই। ওখানে রক্তও যায় না। যেহেতু অ্যান্টিবায়োটিক রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়, যেখানে রক্ত যায় না সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কিভাবে কাজ করবে? ওরকম কিছু হলো কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কোনো অস্ত্রোপচার করা যাবে না। তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে, অস্ত্রোপচার না করেও খেলা সম্ভব হতে পারে। এখন তাই অস্ত্রোপচার করার সুযোগ নেই। আমি বলেন কিংবা ফিজিও, সবাই এখন ওই চিন্তাই করছি যে অস্ত্রোপচার বাদে কিভাবে খেলা যায়।’

এটা আসলে খেলারই অংশ। এক-দুজন খেলোয়াড় সব সময় ফিট থাকবে না। সব সময় খেলতেও পারবে না। সুবিধা হচ্ছে এতে করে নতুন নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ আসে। আশা করি তারা কাজে লাগাতে পারবে এবং ভালো করবে। সত্যি কথা বলতে কারো জন্য কোনো কিছু অপেক্ষা করে না। আমি আশা করি, বাংলাদেশ আরো ভালো করবে। আমি-তামিম ছাড়া যদি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলতে পারে, তাহলে জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে না জেতার কোনো কারণ দেখি না।’