খেলাধুলা

‘ইনশাল্লাহ’ একদিন এই বিশ্বকাপ ট্রফি অবশ্যই আমাদের ঘরে আসবে

বুধবার বাংলাদেশ সফরে এসেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। আজ সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিসিবি একাডেমির সামনে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের দিয়ে ট্রফিটি উন্মোচন করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ সামনে রেখে এখন মিরপুরে চলছে টাইগারদের অনুশীলন। সুতরাং, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ট্রফিটি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

আগামী বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি বিশ্বকাপের ১২তম আসর। বিশ্বকাপের আগে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ট্রফি দেখার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই বিভিন্ন দেশে ট্রফি ভ্রমণ করে থাকে। তারই অংশ হিসাবে আইসিসি বিশ্বকাপের আগামী আসরের ট্রফিটি বুধবার বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

১৮ অক্টোবর ট্রফিটি রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে রাখা হবে। সেখানে সব ধরনের মানুষ ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাবেন। ১৯ অক্টোবর সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাবেন। এদিন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাখা হবে ট্রফিটি। এরপর ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাখা হবে ট্রফিটি।

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিবে দশটি দল। দলগুলো হলো বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে এটা এখন শুধু একটু ছুঁয়ে দেখা আর আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনের জন্য। ট্রফিটা আসলে নিজেদের কাছে আনতে হলে তো চাই বিশ্বকাপ জয়। বাংলাদেশের কি কখনও সেই স্বপ্নটা পূরণ হবে?

দেশের ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে স্বপ্ন দেখাটাকে বাড়াবাড়ি বলবেন না কেউ। বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের নায়ক এবং বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তো মনে করছেন, একদিন অবশ্যই এই স্বপ্নপূরণ হবে। আগামী বিশ্বকাপেই ভালো করার আত্মবিশ্বাস তার।

সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দুবাই থেকে ঢাকায় ট্রফি এসে পৌঁছানোর ঘন্টাখানেকের মধ্যে তোড়জোড় ও শোরগোল বিসিবিতে। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাড়তি পুলিশ ও র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি।

শেরে বাংলায় বিসিবি ভবনের উত্তর দিকে একাডেমির প্রবেশ পথেই ছোট্ট অস্থায়ী মঞ্চ, যার শিরোনাম ‘আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর।’ সেখানেই বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বিসিবি ভবন থেকে ট্রফি আসলো।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক এবং ১৯৯৯ সালের প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম জয়ের নায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে নিয়ে অস্থায়ী মঞ্চে আসলেন বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম। নান্নুর হাত ধরেই উন্মোচিত হলো ট্রফিটি।

স্বপ্নের ট্রফি হাতে নিয়ে স্বপ্নের কথাই শোনালেন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক। নান্নু বলেন, ‘এখন আমরা যে প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছি, অবশ্যই সামনের বিশ্বকাপে ভালো ফল আশা করি। বিশ্বকাপ শব্দটাই অন্যরকম। এটা সব সময়ই উজ্জীবিত করে ইয়াং স্টারদের। আমার বিশ্বাস, আগামী বিশ্বকাপে আমরা ভালো করব।’

বড় টুর্নামেন্টে বারবার ফাইনালে গিয়েও ট্রফি ছোঁয়া হচ্ছে না। নেতিবাচকতা কি পেয়ে বসেছে বাংলাদেশকে? নান্নু অবশ্য এই আটকে যাওয়া থেকেও ইতিবাচকতা খুঁজছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা। যে কোন দল দেখবেন ফাইনালের কাছাকাছি বা ফাইনালে গিয়ে হেরে যাচ্ছে। এই অনুপ্রেরণা নিয়েই কিন্তু সামনে কাপটা জেতে। যেহেতু আমরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ দল। এবং ফাইনাল খেলার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস যে সামনের বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব।’