খেলাধুলা

এই মাত্র পাওয়াঃ পরবর্তি ম্যাচে রাব্বি থাকবে কিনা সরাসরি জানিয়ে দিলেন মাশরাফি

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাতে পেরেছেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার ফজলে রাব্বি মাহমুদ। দীর্ঘ ১৪ বছরের ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অভিষেকটা ঠিক মনমতো হয়নি ত্রিশ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে উইকেটে টিকতে পেরেছেন কয়েক মিনিট, খেলেছেন মাত্র ৪টি বল। বাংলাদেশের ১৫তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক ম্যাচে সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। পরে বোলিংয়ের সময় তিন ওভার হাত ঘুরালেও খুব একটা কার্যকর মনে হয়নি তার অর্থোডক্স স্পিন।

যার ফলে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ শেষেই প্রশ্ন উঠে যায় ফজলে রাব্বির সামর্থ্য নিয়ে। সমালোচকদের বাড়তি উৎসাহ দিচ্ছে সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলা রাব্বির ৩৪ বলে ১৩ রানের ইনিংসটি। তবে বাংলাদেশ দলের ভাবনা ভিন্ন, এক ম্যাচ দেখেই কাউকে বাতিল ঘোষণা করতে চান না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডে খেলতে দল চলে গিয়েছে চট্টগ্রামে। সেখানে আজ (মঙ্গলবার) সবাই করেছে নিয়মিত অনুশীলনও। এর ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি কথা বলেন প্রথম ম্যাচের ভুল-ত্রুটি ও পরের ম্যাচের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে।

নিজের অভিষেক ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেও অধিনায়কের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন ফজলে রাব্বি। তার আউট হওয়া ডেলিভারিটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে লাফিয়ে উঠেছিলো বলে মনে করেন মাশরাফি। এছাড়া প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চ, দর্শকদের চাপ, নিজের উত্তেজনা – সবমিলিয়ে অভিষিক্ত ফজলে রাব্বির জন্য কাজটা সহজ ছিলো না বলে মনে করেন অধিনায়ক।

মাশরাফির মানেন আরও সুযোগ পাওয়া উচিৎ রাব্বির। অন্য সবার মতো তিনিও জানেন ব্যর্থ কোনো খেলোয়াড়কে টানা খেলানোর বিলাসিতা দেখানোর সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের। তবে নতুন কোনো খেলোয়াড়ের পুরোটা পেতে হলে তাকে পূর্ণ সমর্থনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন মাশরাফি।

টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি অবশ্যই মনে করি রাব্বির আরেকটি সুযোগ পাওয়া উচিত। একটা ম্যাচ দিয়ে বিচার করা কঠিন। যদি আপনি বলেন তাকে নেওয়া হলো কেন? তাহলে হয়তো আপনি প্রমাণ করতে পারবেন যে তাকে নেয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। কিন্তু নেওয়ার পর অবশ্যই আমি মনে করি তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ একটা ম্যাচ দিয়ে তাকে বিচার করা উচিত। রাব্বী দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হয়েছে। উইকেট ওপাশ থেকে আনইভেন ছিল। একটা বল হঠাৎ লাফিয়ে ওঠার কারণেই ও বুঝতে পারেনি। এমনটা হয়।’

মাশরাফি আরও বলেন, ‘আবার সবাই কি মনে করছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। একা দায়িত্ব নিয়ে তো আর খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আর যে বলে রাব্বি আউট হয়েছে সেটাতেও দোষ দেওয়ার কিছু নেই। ক্রিকেট খেলা দোষাদুষির জিনিস না। আমরা নিকট অতীতে সব খেলোয়াড়কেই সমর্থন করেছি। যতটুকু সম্ভব হয় করেছি। আমাদের বিলাসিতা করার সুযোগও নেই। ওটাও মাথায় রাখতে হবে। যেহেতু ব্যাকআপ করেছি। এখনও করছি। তাকে পূর্ণ সমর্থন দিতেই হবে। যতদূর সম্ভব তাকে সহযোগিতা করতে হবে।’

অধিনায়কের কথায় ধরেই নেয়া যায় যে দ্বিতীয় ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই খেলবেন ফজলে রাব্বি। তাহলে স্কোয়াডের সবাইকে দেখে নেয়ার যে ইচ্ছে ছিলো দলের সেটি পূরণ করা কতোটা সম্ভব হবে? প্রথম ম্যাচের একাদশের বাইরে থাকা আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত বা আরিফুল হকেরাও অপেক্ষায় আছেন সুযোগের।

একাদশে অদল-বদলের সম্ভাবনার ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, ‘একাদশের ব্যাপারে বলা এখনও কঠিন। দুজন (আসলে তিনজন) এখনও বাইরে আছে। শান্ত ও আরিফ বাইরে আছে। রনিও আছে। সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচ। হুট করে তাদের সরিয়ে দেওয়া কঠিন। সবমিলিয়ে কোচ, নির্বাচক; উনাদের মতটা কি সেটা আলোচনার ব্যাপার আছে। এখনও ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আছে। আলোচনা হয়তো অনুশীলনের পর কিংবা সন্ধ্যার পর হতে পারে। এখনই আসলে বলা কঠিন।’

এসময় একজন নতুন খেলোয়াড়ের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজটা যে খুব সহজ হয় না সে ব্যাপারেও বিশদ ব্যাখ্যা দেন মাশরাফি। ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দূরত্বটা বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানুষের বাড়তি আগ্রহটাও যে নতুন ক্রিকেটারের জন্য অনেক বড় চাপ তা জানিয়ে দেন অধিনায়ক মাশরাফি।

তিনি বলেন, ‘(নতুন ক্রিকেটারের জন্য চ্যালেঞ্জ) প্রথমত ক্যামেরা। একটা খেলোয়াড় যখন জানে যে টিভিতে খেলাটা দেখা হচ্ছে তখন সে না চাইলেও প্রেসার চলে আসে। তারপরে ঘরের মাঠে খেলা হলে বিশাল দর্শক সমাগম তো থাকেই। আবার ধরেন আমাদের যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে এগুলো একটা বড় ব্যাপার। প্রেস আছে, টিমমেট আছে, পরিবার আছে। এগুলো তো ঘরোয়া ক্রিকেটে নেই। কেউ হয়তো খোঁজও রাখে না ঘরোয়ার। দুই ক্রিকেটের ব্যবধান অনেক বেশি। এমনও না যে ১৯-২০। ইভেন ফাস্ট ক্লাসের সঙ্গেও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের ব্যবধান অনেক বেশি।’