Notunshokal.com
জাতীয়

পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি, মহাদুর্ভোগে নগরবাসী

হঠাৎ করে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে মহা দুভোর্গে পড়েছে নগরবাসী। সকালে দেখা যায় শত শত বিভিন্ন স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ছে। অপেক্ষা পরিবহনের। কিন্তু কোথাও পরিবহনের বালাই নেই। যারা পারছেন রিকশায় করে বিভিন্ন গন্তবে যাচ্ছেন। যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। জাতীয় সংসদে ১৯ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

ওই সময়ের মধ্যে সড়ক পরিবহন আইনের ধারা সংশোধন না করা হলে ৩০ অক্টোবর থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

২৭ অক্টোবর, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ওয়াজি উদ্দিন খান।

ওই সময় তিনি বুড়িগঙ্গা সেতুর টোল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ট্রাকচালক সোহেল হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আট দফা দাবিও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আট দফা দাবি।

শ্রমিকদের ৮ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় সব মামলা জামিনযোগ্য করা, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা প্রত্যাহার, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা, ওয়ে স্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল, সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকের নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরের ব্যবস্থা রাখা, সব জেলায় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের পর লাইসেন্স ইস্যু ও লাইসেন্স ইস্যুর সময় হয়রানি বন্ধ করা।

পূর্ব নির্ধারিত এই সমাবেশ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দুপুর ২টার পর থেকেই সারা দেশ থেকে আসা পরিবহন শ্রমিক নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। এরপর বেলা ৩টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, সম্প্রতি সংসদে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ‘শ্রমিকদের বিরুদ্ধে’ যে আইন পাস হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এ আইন বাতিলে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

এক শ্রমিক নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সারা দেশে কিছু নেতার কারণে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে। হঠাৎ করে পোস্তগোলা ব্রিজে টোলের হার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪০ টাকা করা হয়েছে। তার প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ গুলি করে মেরেছে এক ট্রাকচালককে। আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৭ দফা দাবিতে ৯ অক্টোবর সকাল থেকে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। সেদিন বিকাল ৪টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিলেন ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা।

শনিবারের সমাবেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীসহ শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ফরিদুর রেজা সাগর-ব্রাউনিয়া

Sheikh Anik

হঠাৎ কেঁপে উঠলো রাজধানীসহ গোটা দেশ

Syed Hasibul

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও ঢাকার রাস্তায় ইমার্জেন্সি লেন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি

Syed Hasibul