Notunshokal.com
গ্রাম-গঞ্জ

লেডি বাইকার ইয়াবা কুইন “মিউ”

মাত্র ১৮ বছর বয়সী মেয়েটির পুরো নাম ফারিয়া তাবাসসুম মুক্তি হলেও ফেসবুকে সে “মিউ” নামেই মাগুরা তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশী পরিচিত। মাগুরা জেলার অন্যতম লেডি বাইকার এই তরুণী। একজন ফেসবুক সেলিব্রিটি। যেন রুপালী পর্দার নায়িকাদের মতই তার জীবন যাপন। কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী হিসাবে তিনি বেশী পরিচিত না পরিচিত যেন কলেজ ক্যাম্পাসের তরুণী মডেল হিসাবে। নতুন নতুন পোশাকে, নতুন হাত ঘড়ি, নিত্যনতুন মোবাইল ব্যবহার করা এসব ই যেন তার নেশা।

গত ৭ই নভেম্বর মাগুরা জেলার কলেজ পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অর্ধ হাজার ইয়াবা, গাঁজা, ফ্রিজের ভিতর মদ ভর্তি বোতল সহ মা-মেয়েকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংবাদ প্রচারের পর থেকেই তরুণীর সম্পর্কে আসতে থাকে নানা অভিযোগ। একাধিক তরুন থেকে যুবক বয়সী ছেলেরাও ইয়াবা সুন্দরী ফারিয়া মিউ এর মায়ার জালে আটকে কেউ মোটা অংকের অর্থ খুইয়েছেন, কেউ বা নামি দামী ব্রান্ডের মোবাইল, ওয়েস্টার্ন পোশাক উপহার দিয়ে পিছু পিছু ঘুরেছেন,কেউ আবার মন দিয়ে ভালবেসে হতাশ হয়েছেন।

কে এই মিউ? এর উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধানে জানা যায়, মাগুরা কলেজ পাড়ার হোল্ডিং নং ১৪৫ নম্বর বাসাটি তাদের নিজেদের । সে মাগুরা হোসেন শহীদ সরকারি কলেজ উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পিতার নাম মোঃ মখলেছুর রহমান। ফারিয়া তাবাসসুম মুক্তি(মিউ) তার পিতার দুইটি পক্ষের মধ্যে প্রথম পক্ষের সন্তান। স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় সে একবার পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল তবে তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি।

মাগুরা সরকারী কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীদের সাথে মিউ এর ব্যাপারে তারা জানায়, পাঠদান শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি না থাকলেও কলেযে যেদিন সে আসত সারাদিনই ক্যাম্পাস কমপাউন্ডে আড্ডায় ব্যস্ত থাকতো। তার সহপাঠীদের দেওয়া তথ্য মতে বড়লোক ছেলেদেরকে টার্গেট করেই প্রণয় বা প্রেমের সম্পর্কে জড়াতো মিউ । এই তথ্যের সত্যতাও মিলেছে শতভাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকায় বসবাসকারী একজন বলেন, “প্রায় দেড় বছর আগে আমি রিয়েল এস্টেট ম্যানেজার থাকার সুবাদে ফারিয়া তাবাসসুমের সাথে আমার প্রেম হয়। এসময় মেয়েটির মা আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে তার সম্মতি দেন। এরপর থেকে তার পরিবারের এই সমস্যা সেই সমস্যার কথা বলে আমার কাছ থেকে কমপক্ষে দেড়লক্ষ টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে মেয়েটিকে আমি অনেক ভালবাসতাম”

মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ স্নাতক বিভাগের এক ছাত্র জানায় মিউ এর মোহনীয় আমন্ত্রণের জন্য তাকেও গুনতে হয়েছে মোটা টাকা। এছাড়াও একাধিক তরুণ থেকে শুরু করে যুবকেরা পর্যন্ত তার শুশ্রী চেহারার প্রেমে পড়ে মিউ এর চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা, মোবাইল সহ অনেক উপহার দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মাদক উদ্ধারের অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশের এ এস আই মোহাম্মদ রেজা জানায়, কলেজ পড়ুয়া মেয়েটির বাসা থেকে শুধু গাঁজা,মদ বা ইয়াবা নয় পাওয়া গিয়েছে একাধিক কনডম!

১৮ বছর বয়সী ব্যাচেলর তরুণী মায়ের সাথে পারিবারিক ভাবে থেকেও এমন অপরাধ প্রবণ হয় কি করে? পারিবারিক শিক্ষার অভাব না সামাজিক মূল্যবোধ এর অবক্ষয়? এমন একাধিক প্রশ্নে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমরা কলেজে,মাদক বিরোধী সমাবেশ, সেমিনার সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাদকের ভয়াবহতার কথা জানিয়ে আসছি। তবে পারিবারিক ভাবে এভাবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ও হতাশার । এই ব্যাপারে কলেজ প্রশাসনের কি কিছুই করার নেই এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এই ব্যাপারে শিক্ষকদের অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন

ফরিদপুরে শ্রীকৃষ্ণের মুর্তিসহ প্রতারকচক্রের আটক ২

ফরিদপুরে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৭৩

দরজার তালা ভেঙ্গে ডেপুটি অ্যার্টি জেনারেল অসলাম খান এর বাড়ি চুরি।