খেলাধুলা

তামিম-কোহলিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছেন। তবে তামিম-কোহলির কথা উঠতেই যেন অস্বস্তিতে মুমিনুল

রানা আব্বাস, চট্টগ্রাম থেকে: জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে তাঁর ব্যাট যেভাবে আলো ছড়ায়—মাঠটা যেন তাঁর বাড়ির উঠোন। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি করেছেন। রেকর্ড বইয়ের কিছু অধ্যায়ে তামিম-কোহলিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছেন। তবে তামিম-কোহলির কথা উঠতেই যেন অস্বস্তিতে মুমিনুল।

সাংবাদিকের দলটা মুমিনুল হককে এগিয়ে দিতে আসে মাঝমাঠ পর্যন্ত। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, নিভিয়ে দেওয়ার সময় হয়ে যায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটের। সেই মৃদু আলোতেও মুমিনুলকে আশ্চর্য উজ্জ্বল দেখায়। এই মাঠটা যে তাঁকে দুহাত ভরে দেয়। জহুর আহমেদের ২২ গজে নামলেই যাঁর ব্যাট দ্যুতি ছড়ায়, সেই মাঠে ঘোর সন্ধ্যা নেমে এলেও মুমিনুলকে তো উজ্জ্বল দেখাবেই।

এই মাঠে নামলে আপনার ভেতর কি অন্য এক মুমিনুল ভর করে? হাসেন। মাথা দুদিকে নাড়ান, ‘না, না। তেমন কিছুই মনে হয় না।’ তাহলে এই মাঠে এলেই কেন অন্য মুমিনুলকে দেখা যায়? তাঁকে অবশ্য ‘লোকাল হিরো’ বলার উপায় নেই। চট্টগ্রাম থেকে মুমিনুলের শহর কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। একেবারে কাছেও নয়। দূরত্ব যাই হোক, মুমিনুল সেটি ঘুচিয়ে দেন ২২ গজে। জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে তাঁর ব্যাট যেভাবে আলো ছড়ায়—মাঠটা যেন তাঁর বাড়ির উঠোন। ছয় বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে যে ১৬টি মাঠে খেলেছেন, সবচেয়ে ধারাবাহিক তিনি চট্টগ্রামেই। ৮ টেস্টে ৬ সেঞ্চুরিতে এ মাঠে করেছেন ৯৮৯ রান। এখানে তাঁর ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হার ১০০ শতাংশ! তার মানে জহুর আহমদে ফিফটি করলে মুমিনুল সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেবেনই!

মুমিনুলকে ‘চট্টগ্রামের ছেলে’ না বলা গেলেও তামিম ইকবালকে অবশ্যই বলতে হবে। অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, বাঁহাতি ওপেনারের চেয়ে মুমিনুলকেই একটু বেশি ভালোবাসে জহুর আহমেদ! ‘প্রিয়’ মাঠেই আজ টেস্ট সেঞ্চুরি সংখ্যায় তামিমকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মুমিনুল। ‘ভেরি হ্যাপি ফর হিম’—বিকেলে এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে তামিম যে খুদে বার্তাটি পাঠালেন, তার প্রাপক মুমিনুলই। মুমিনুল যদি এই সিরিজে ছাড়িয়েও যায়, ভীষণ খুশি হবেন তামিম। সেঞ্চুরি-সংখ্যায় তামিমকে ছুঁয়ে কেমন লাগছে মুমিনুলের? প্রশ্নটা শুনে একটু যেন অস্বস্তিতে পড়ে যান মুমিনুল, ‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। তিনি আমাদের দেশের, ক্রিকেট বিশ্বের অন্য লেভেলের ব্যাটসম্যান। আমার কাছে মনে হয় তুলনা করা ঠিক হবে না।’

তামিমের সঙ্গে তুলনায় যেতে চান না, বিরাট কোহলিকে যে একটি জায়গায় ছাড়িয়ে গেলেন সেটি নিয়ে কী বলবেন? বছরটা ভীষণ পয়া মুমিনুলের। কোহলি আর মুমিনুলই শুধু এ বছর চারটি করে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। এ পথে মুমিনুল বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানটিকে পেছনে ফেলেছেন ইনিংসের হিসেবে। ২০১৮ সালে এ পর্যন্ত চারটি সেঞ্চুরি করতে কোহলি খেলেছেন ১৮ ইনিংস। মুমিনুল (১৩ ইনিংস) তাঁর চেয়ে ৫ ইনিংস কম খেলেই চার সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। যেখানে এই বছর টেস্টে আর কারও দুটি সেঞ্চুরিই নেই। তামিমকে ‘অন্য লেভেলের’ ব্যাটসম্যান বলেছেন, মুমিনুল কোহলিকে বলছেন, ‘বিরাট কোহলি তো আরও উঁচুতে। এসব নিয়ে চিন্তা করি না।’

সত্যি চিন্তা করেন না? এই সিরিজেই তো দেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেঞ্চুরিসংখ্যায় সবার ওপরে আর এক পঞ্জিকাবর্ষে কোহলিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। ‘চেষ্টা করব সেঞ্চুরি করতে। রেকর্ডের দিকে তাকিয়ে নয়, দলের ভালো ফল এনে দিতে’—সংবাদ সম্মেলন শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে বলা মুমিনুলের কথাটা যেন তাঁর সৌরভ ছড়ানো ইনিংসটার মতোই সুন্দর!-প্রথম আলো

আরও পড়ুন

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা অাউট। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন

হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেন মেসি। দেখুন আজকের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের ভিডিও

হ্যাটট্রিক করলো চেলসি

Syed Hasibul