খেলাধুলা

বিপিএল দিয়ে আবারো জাতীয় দলে সুযোগ পেতে চান নাসির হুসাইন

ছুটি কাটাতে গিয়ে ফুটবল খেলার সময সেই গত এপ্রিলে ইনজুরিতে পড়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। এক প্রীতি ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল তার। এরপর গত জুনে অস্ত্রোপচারের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় জান নাসির হোসেন।

এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিনি আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের মাধ্যমে ক্রিকেটে ফিরতে পারেন। এই বি পি এল এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন নাসির হোসেন।সেই বি পি এল কে এ আবার বেছে নিলেন জাতীয় দলে ফেরার উদ্দেশ্যে।

অস্ত্রোপচার নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে নাসির হোসেন বলেছেন, ‘আমার তিনটি সার্জারি করাতে হয়েছে। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম আমার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে আমার একটি সার্জারির দরকার। কিন্তু পরে চিকিৎসকরা জানালেন, তিনটি সার্জারির প্রয়োজন।

সত্য কথা বলতে বিষয়টি আমার কাছে ভীতিকর ছিল। আমি জীবনে কখনো এমন বড় সার্জারির মুখোমুখি হইনি। হঠাৎ করেই আমি জানতে পেরেছিলাম, আমার তিনটি সার্জারির দরকার হবে। সার্জারির পর আমাকে যখন স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলতে হতো তখন সেটি আমার কাছে দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’

গত দুই মাস ধরে শুধু জিম সেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাসির। তিনি এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেছেন। তিনি এখন দৌঁড়াতে শুরু করেছেন। কিন্তু পুরোদমে দৌঁড়াতে তার আরও সময় লাগবে। এ ব্যাপারে নাসির হোসেন বলেছেন, ‘বর্তমানে আমি ৭০-৮০ শতাংশ গতিতে দৌঁড়াতে পারছি। পুরো গতিতে দৌঁড়াতে এখনো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আশা করি, বিপিএল শুরুর আগে ফিট হয়ে উঠব।’

অস্ত্রোপচারের পর গত ২৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো নেটে বাটিং ও বোলিং করেন নাসির হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘গত আট মাস ধরে ব্যাট আমার ব্যাগে ছিল। এর মধ্যে একবারও বের করতে পারিনি। আট মাস পর আজ (গত রবিবার) ব্যাট করলাম। এই দিনের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। সব সময় আমার মাথার মধ্যে ঘুরছিল যে, আমি কবে ফিরতে পারব।’

নেট অনুশীলন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যাট করার আগে যখন প্যাড পরছিলাম তখন এটি আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা মনে হচ্ছিল। মনের মধ্যে অনেক কিছুই ঘুরপাক খাচ্ছিল। দুই-তিন বল পর মাঝ ব্যাটে খেলতে পারছিলাম।

তখনো আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার হাত ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, আমার পা ঠিক আছে কি না। একই রকম মনে হচ্ছিল, যখন আমি বল করছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি মনে হয়, রানআপ ভুলে গিয়েছি। দুই-তিন দিন অনুশীলনের পর হয়তো বিষয়গুলো ঠিক হবে।’

জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে নাসির হোসেন বলেছেন, ‘এখন নতুন খেলোয়াড়দের দলে ঢোকা সহজ। যারা একবার দলে খেলার পর বাদ পড়েছে তাদের জন্য ফেরা কঠিন। দলে নতুনরা যদি ভালো করে তাহলে তা সবার নজর কাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দল থেকে একবার যারা বাদ পড়েছে তারা ভালো করলেও লাইমলাইটে আসে না। এর কারণ হতে পারে, তাদের কাছ থেকে হয়তো প্রত্যাশা আরও বেশি। আমি এখন দলের বাইরে। নতুন খেলোয়াড়দের চেয়ে আমাকে ভালো করতে হবে। এর মানে এই নয় যে, আমি জাতীয় দলে ফিরতে পারব না। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় দলের দরজা সবার জন্য খোলা। যদি কেউ পারফর্ম করে তাহলে তাকে জাতীয় দলের বাইরে রাখা হবে না।’

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আসন্ন বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলতে দেখা যাবে নাসির হোসেনকে। আর জাতীয় দলে ফেরার জন্য বিপিএলকেই টার্গেট করছেন নাসির। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘এখন আমি চিন্তা করছি, কীভাবে শতভাগ ফিট হওয়া যায়।

আমি যদি পারফর্ম করতে পারি তাহলে ডাক এমনিতেই আসবে। আমি চেষ্টা করব ভালো পারফরম্যান্স করে দলে ফেরার। এক্ষেত্রে বিপিএল টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এখানে পারফরম্যান্স করার সুযোগ আছে।’