রাজনীতি

বিকল্প প্রার্থী দিচ্ছে বিএনপি যে ৫ কারণে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করছে বিএনপি। তবে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আশঙ্কায় কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

সোমবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে চূড়ান্ত থাকা প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া শুরু হয়। মনোয়ন দেয়ার পর দেখা গেছে অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থীকেই চূড়ান্ত করা হবে। এ সময় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ফরমেও প্রার্থীদের স্বাক্ষর রাখা হচ্ছে।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনের মনোনয়নের চিঠি তার প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম দেয়ার এ কার্যক্রম শুরু হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

এবিষয়ে দলটির মহসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এক আসনে একাধিক প্রার্থী দিচ্ছি। কারণ কোনো কারণে একজনের প্রার্থিতা বাতিল হলে যেন সেটি খালি না থাকে।’

সোমবার তিনটি বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও একটি বিভাগের আংশিক মিলে মোট ১০৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কোনো কোনো আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো দুই বা ততোধিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দেখা গেছে দু’একটি আসনে একই পরিবারের দুজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগে অনেক আসনে।

আবার কোনো কোনো আসনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীকে দলের প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়েছে। বরিশাল-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সেলিমা রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এরা দুজনই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

এছাড়া, রিশাল-২ আসনে দেয়া হয়েছে শরফুদ্দিন সান্টু ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। এদের মধ্যে একজন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, অন্যজন যুগ্ম মহাসচিব। সিরাজগঞ্জ-২ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তবে দলের এমন ভাবে প্রার্থী দেয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য দলটি একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, দলটি সুচিন্তিতভাবেই কোনো কোনো আসনে দুই বা ততোধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিষয়টি কাকতালীয়ভাবে হয়নি।

এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রায় প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতা ছাড়া প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে আমরা দুজনকে মনোনয়নের চিঠি দিচ্ছি। যাতে কোনো কারণে একজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেলে অন্যজন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বেশ কিছু কারণে একই আসনে দুই বা ততোধিক প্রার্থী দেয়া হচ্ছে।

১. বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ঠেকানো।

২.মামলার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলে আসন শূন্য না রাখা।

৩. জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনও না হওয়া।

৪. ঋণখেলাপির কারণে কারও প্রার্থিতা বাতিল হলে যেন আসন শূন্য না থাকে।

৫. দলবদল করতে না দেয়া।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তাদের প্রায় সবার নামে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। অনেকের নামে দুর্নীতির অভিযোগে কিংবা ফৌজদারি অপরাধেও মামলা রয়েছে। আর এ কারণে অনেকেরই মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলের হাইকমান্ড এক আসনে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে।

আরও পড়ুন

হেলমেট পরিহিত সেই যুবক আটক

হিরো আলমের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল

Syed Hasibul

হিরো আলমের নির্বাচন করতে আর কোন বাধা থাকল না

Syed Hasibul