Notunshokal.com
খেলাধুলা

লিটনের টি-২০ স্টাইলে ব্যাটিং দেখে যা বললেন ধারাভাষ্যকার

ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন আগের দিন করা ৫ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন এখন পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫২ রান। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং লিটন দাস উইকেটে থিতু হয়ে ব্যাট করছেন।

দ্বিতীয় দিনঃ

রিয়াদ-লিটনের জুটিঃএকপ্রান্তে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দেখেশুনে খেললেও অপরপ্রান্তে থাকা লিটন দাস ব্যাট করছেন ওয়ানডে মেজাজে। দুজন মিলে ইতিমধ্যে ৫০ রানের জুটিও গড়েছেন। সেই সঙ্গে দলের স্কোর গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০’র উপর।

রিয়াদের অর্ধশতকঃসাকিব আল হাসান সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও অপরপ্রান্তে থিতু হয়ে খেলতে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তাঁর নতুন সঙ্গী লিটন দাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ফিফটি তুলে নিয়েছেন ইতিমধ্যে। লিটনের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ঃটাইগারদের হয়ে আজ দিনের শুরু থেকে দারুণ ব্যাটিং করছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৫৫ রানে দিন শেষ করা সাকিব নিজের স্কোরটিকে শতকের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কিমার রোচের বলে ইনিংসের ৯৭তম ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। রোচের বলে গালি অঞ্চলে শাই হোপের হাতে ধরা পড়েন সাকিব। ফলে পরিসমাপ্তি ঘটে তাঁর ৮০ রানের অনবদ্য ইনিংসটির।

প্রথম দিনঃসাকিবের সিদ্ধান্তে ব্যাট করতে নেমে অভিষিক্ত সাদমান ইসলাম অনিক এবং সৌম্য সরকারের ব্যাটে শুরুটা ভালোই করে টাইগাররা। শুরু থেকেই দুই ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করছিলেন। কিন্তু শুরুটা ভালো হলেও ব্যক্তিগত ১৯ রানে রস্টন চেজকে অফ সাইডে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বসেন সৌম্য।

চট্টগ্রাম টেস্টেও সৌম্য একই ধরণের শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরেছিলেন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। তাঁর ভুলের কারণে সাজঘরে নেমেছেন মমিনুল হক। এরপরই লাঞ্চ বিরতিতে যায় টাইগাররা।

লাঞ্চের ঠিক দুই বল আগে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে বিদায় নেন মমিনুল হক। সাদমান ইসলামের সঙ্গে হাল ধরেই খেলছিলেন তিনি। একপ্রান্তে সাদমান থিতু হয়ে খেললেও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলছিলেন মমিনুল।

কিন্তু ঠিক লাঞ্চের আগের উইন্ডিজ পেসার কিমার রোচের বলে অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন মমিনুল। ২৯ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। মমিনুল ফিরলেও মিঠুনের সঙ্গে হাল ধরে খেলে তামিম ইকবাল, জাভেদ ওমর বেলিম এবং হান্নান সরকারের পর চতুর্থ বাংলাদেশী ওপেনার হিসেবে অভিষেক টেস্ট ইনিংসে অর্ধশতক হাঁকান সাদমান ইসলাম।

১৪৭ বলে টেস্ট মেজাজে ব্যাট করে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ফিফটির পাশাপাশি দলীয় ১০০ রানের পুঁজি পেয়েছে টাইগাররা। মোহাম্মাদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে উইকেটে থিতু হয়ে ব্যাট করছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অন্য প্রান্তে অভিষিক্ত সাদমান ইসলামের সাথে ভালোই খেলছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। জুটি গড়েছিলেন ৬৪ রানের। কিন্তু ৫৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম বলেই মিঠুনকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান ক্যারিবিয়ান স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু।

তাঁর গুগলি বলটিকে পুল করতে গিয়ে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। আর এরই সাথে টানা তিন ইনিংসে বিশুর বলে ফিরতে হলো মিঠুনকে। এর আগের টেস্টের দুই ইনিংসেও একই স্পিনারের বলে আউট হয়েছিলেন তিনি।

মিঠুনের বিদায়ের পর অর্ধশতক হাঁকানো সাদমানও বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্যারিবিয়ান স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর ৫৯তম ওভারের পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন এই ওপেনার। এরই সাথে শেষ হয় তাঁর ৭৬ রানের ইনিংসটির।

চা বিরতির পর ব্যাট করতে নেমে বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারেন নি মুশফিকুর রহিম। উইন্ডিজ পেসার শেরমন লুইসের ফুল লেন্থের ছোড়া বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন মুশফিক। তাঁর বিদায়ে ক্রিজে নামেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পাঁচ উইকেট হারালেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ভর করে দলীয় ২০০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ডে রান বাড়িয়ে চলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৫০ রানের ঊর্ধ্বে জুটিও গড়েন দুইজন। সেই সঙ্গে ফিফটি তুলে নেন দলপতি সাকিব আল হাসান। সাকিব এবং রিয়াদের ব্যাটে ভর করেই ৫ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশঃসাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান।

উইন্ডিজ একাদশঃক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), কাইরন পাওয়েল, শাই হোপ, সুনীল আমব্রিস, রস্টন চেজ, শিমরন হেটমায়ার, শেন ডওরিচ (উইকেটরক্ষক), জোমেল ওয়ারিকেন, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ, শিরমন লুইস।

আরও পড়ুন

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা অাউট। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন

হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেন মেসি। দেখুন আজকের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের ভিডিও

হ্যাটট্রিক করলো চেলসি

Syed Hasibul