খেলাধুলা

বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল বিষয়ে যা বললেন কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার, তাই মনোনয়নপত্র বাতিলে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোনো হাত নেই।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ দাবি করেন তিনি ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আইনে আছে বাতিল করার। সরকার কোনো ভাবেই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না। যদি তাই হতো, তাহলে কি আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় শরীক দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব বাদ পড়বেন, এটা কি আমরা চাইবো? খালেদা জিয়ার বিষয়টি তো আদালত আগেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে। দুই বছরের বেশি যারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত, তারা নির্বাচন করতে পারবে না। এটা উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত, উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ দ্যাট। আমাদেরও তো অনেকে বাদ গেছে, সেখানে আমাদের কি করার আছে? মনোনয়নপত্র যেসব কারণে বাতিল হয়, সেগুলো তো নির্বাচন কমিশন সবসময় আমলে নেয়। নতুন করে তো কোনও আইন করা হয়নি।’

হাজী সেলিমের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাজী সেলিমের বিষয়ে যদি বলে তাহলে আমরা সেখানে দুজন কেন প্রার্থী দিলাম? আমাদের সন্দেহ ছিল হাজী সেলিম বাদ যেতে পারে। সেজন্য আমরা আমাদের মহানগর দক্ষিণের সভাপতির নাম দুই নম্বরে রেখেছিলাম। যেসব জায়গায় আমাদের সংশয় ছিল যে প্রার্থী নির্বাচনী আইনে টিকবে কিনা, সেক্ষেত্রে আমরা কিন্তু দুইজন প্রার্থী দিয়েছি। আমরা ধরে নিয়েছিলাম হয়তো হাজী সেলিম টিকবে না। কিন্তু তিনি আইনে টিকে গেছেন এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই।’

মনোনয়ন বাতিলে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মওদুদ সাহেব। খুব বিশ্বস্ত মাধ্যম থেকে জানানো হয়েছিল যে তার মনোনয়নপত্রে কিছু কিছু ত্রুটি আছে। আমি তখন মন্তব্য করেছিলাম মওদুদ আহমদ সাহেব নির্বাচন না করলে আমি খুব কষ্ট পাবো। তা নাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন সেখানে হবে না।’

এদিকে, ‘এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকা যাবে না’- ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর কর্ণেল অলি আহমেদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাদের বলেন, ‘অলি আহমেদ সাহেব আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি কিছু কিছু সমস্যা তুলে ধরেছিলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে। আমি তখনই তাকে বলেছি যে দেখুন, এখন তো প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন সব কমিশনের অধীনে। তারপরও আমি দলের সেক্রেটারি হিসেবে চেষ্টা করবো যাতে আপনার এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোনো ভাবে ক্ষুন্ন না হয়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা কোনও অবস্থাতেই এক তরফা কোনও কিছু সৃষ্টি করে, নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না। গণতন্ত্র দুই চাকার একটি সাইকেল। এক চাকা ক্ষমতাসীন দল এবং আরেক চাকা বিরোধী দল। কোন চাকায় কে থাকবে এটা জনগণই সিদ্ধান্ত নিবে। ফাঁকা মাঠে গোল দিবো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এধরনের ইচ্ছা কখনোই পোষণ করেন না। ফাঁকা বুলি দিতে চাই না, আমরা একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।’

নির্বাচন থেকে বিএনপির সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে হুমকি দিচ্ছে তা দেশের জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। এটাই আমি তাদের কাছে প্রত্যাশা করি।’