খেলাধুলা

দল ক্ষমতায় না অাসলে কি করবেন মাশরাফি? জানালেন তিনি

অাজ মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনে খুব কমই আসলো ক্রিকেটের কথা। প্রশ্নগুলোর প্রায় সবই হলো রাজনীতি নিয়ে। মাশরাফিও জবাব দিলেন। সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা। যেখানে সাধারণত বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন করতে দেখা যায় ক্ষমতাসীনদের। মামলা-হামলায় জর্জরিত করা হয় বিরোধী রাজনীতিকদের।

মাশরাফিকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার দল যদি না নির্বাচনে জিততে না পারে তাহলে বিরোধী দলের অবস্থা তো আমরা জানি। এখন যদি বিবেচনা করি প্রতিহিংসার রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা। দল না জিতলে আপনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে? জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘হতে পারে। কালকে আপনার জীবনে কী ঘটবে তা আপনি জানেন না।

আমার জীবনে কী ঘটবে সেটাও আমি জানি না। গুরুত্বপূর্ণ হল আমি ক্লিয়ার মাইন্ডে যাচ্ছি কিনা সেটাই। আমি শুধু আমাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এর বাইরে আমি কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমি পুরোপুরি ক্লিয়ার মাইন্ডে আছি। এখন পর্যন্ত এটুকুই ভাবছি।

এতকিছু নাও হতে পারে। কালকে আমার কী হবে সেটা আমি জানি না। এতকিছু ভাবার সুযোগ এখন নাই।’ মাশরাফির পরিবারের জন্যও এভাবে রাজনীতির মাঠে নামা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। এ বিষয়ে ম্যাশ বলেন, ‘পরিবারের জন্য এটা নতুন জিনিস যেমনটা আমার কাছেও। তাই তাদের এটাতে অ্যাডজাস্ট হতে কিছুটা সময় লাগবে।

ওইভাবে রাজনীতি আমার বাসায় কেউ করেনি এটাও সত্যি কথা। পুরো ফ্যামিলির জন্য নতুন কিছু।’ স্ত্রী রাজনীতি আসতে কোন বাঁধা দিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এক চিলতে হাসির সঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘মানা করার কিছু নাই। এখন সবাইকে অ্যাডজাস্ট করতে হবে।’

প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচন নিয়ে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার ম্যাসেজটা কী? মাশরাফি বলেন, ‘আমার একটাই মেসেজ যে, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করি। নিজেকে আমি ঠিক জায়গায় নিতে পারি কিনা দেখি। ২০০১ সালে আমার যখন অভিষেক হয় তখন কিন্তু আমি তরুণদের আইকন ছিলাম না।

আমি আমার কাজটা মন দিয়ে করে গেছি, আল্টিমেটলি আজকে এই অবস্থানে দাঁড়িয়েছি। যদি নির্বাচিত হই তাহলে আমার কাজটা মন দিয়ে করবো তারপরে দেখা যাক কী হয়।’ জানতে চাওয়া হয়, রাজনীতিক মাশরাফির আদর্শ কী থাকবে? ম্যাশ বলেন, ‘আমার এখনো আদর্শ তো হয়নি। আমি কাজ করার পরে দেখবো যে আসলে কী হয়।

আপনারাও দেখবেন। যদি ভালো কাজ করতে পারি তাহলে অবশ্যই একটা ভালো ইমপ্যাক্ট পড়তে পারে। আমি সেটাই চেষ্টা করবো।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগামী ৬ ডিসেম্বর প্রস্তুতি ম্যাচের পর ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। যেখানে মাশরাফির নেতৃত্ব লড়বে টাইগাররা।

টেস্ট এবং টি-২০ খেলছেন না। আর তাই অনেকটা সময়ই তাকে থাকতে হচ্ছে ম্যাচের বাইরে। একারণেই হয়তো প্রস্তুতি ম্যাচেও মাশরাফি খেলতে পারেন