Notunshokal.com
জাতীয়

নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি পুলিশ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঘাতক বাবাকে আটক করে

নুরুজ্জামান কাজল নামে এক বাবা বাড়ির ভেতরে তার তিন বছরের ছেলেকে মেরে কাফনের কাপড় পরিয়ে টি টেবিলের ওপর রেখেছেন। আর বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে রামদা নিয়ে বসা আছেন। ঘটনার পরপরই ওই অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করেছে। নিহত শিশুটির নাম নূর সাফায়েত।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি পুলিশ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঘাতক বাবাকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।

এর আগে পুলিশ ও র‍্যাব সাংবাদিকদের জানায়, আজ বুধবার সকালে বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়িতে এক বাবা তার দুই শিশুসন্তানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছেন। পুলিশ এমন সংবাদে বাসাটি ঘিরে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পরে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন।

বিষয়টি নিয়ে র‍্যাব-২–এর এসআই শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি শিশুটির বাবা বসে আছেন, তার পাশে একজন হুজুর বসে আছেন। শিশুটিকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় রামদা নিয়ে বসে আছেন।

এসময় শিশুটির বাবাকে কোনো সাহায্য লাগবে কি না, জানতে চাইলে নিহত শিশুটির বাবা বলেন, আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। বেলা একটার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব।

শহীদুল ইসলাম আরও জানান, কাজলকে দেখে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তার আচরণ অস্বাভাবিক। তিনি ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না।

এদিকে, বাংলামোটরের ১৬ লিংক রোডের ওই ভবনের নিচে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গাড়ি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনটি ঘিরে রেখেছেন। পুলিশ কাউকে ওই ভবনে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ভবনটি দোতলা ও নিচতলায় বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এছাড়া, কাজলের ভাই উজ্জ্বল সাংবাদিকদের জানান, বাংলামোটরের এ বাসায় দুই শিশুসন্তান সাফায়েত ও সুরায়েতকে নিয়ে থাকেন তার ভাই। এছাড়া তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

কাজলের ভাই আরও বলেন, আজ সকালে তার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে মারা গেছে বলে মসজিদে গিয়ে ঘোষণা দিতে বলেন কাজল। তার পর মাদ্রাসার ছাত্রদের পবিত্র কোরআন খতম দেয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তার সঙ্গে যান।

আরও পড়ুন

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ফরিদুর রেজা সাগর-ব্রাউনিয়া

Sheikh Anik

হাজী সেলিম নৌকার টিকেট পেয়ে বাকশক্তি ফিরে পেলেন

Syed Hasibul

হঠাৎ কেঁপে উঠলো রাজধানীসহ গোটা দেশ

Syed Hasibul