Notunshokal.com
বিনোদন

প্রতিটি শিশুকে যা শেখানো উচিত

শৈশব থেকে শিশুকে ভালো আচরণ, গঠনমূলক ও সৌজন্যতামূলক আচরণ শেখানো উচিত। আজকের শিশুটি একদিন সমাজ গড়ার কারিগর হবে। দেশ, জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ছোট থেকে যদি শিশুর মধ্যে নৈতিক গুণাবলী ও মূল্যবোধের ঘাটতি থাকে তাহলে বড় হয়েও ঘাটতি থাকবে। তাই বাবা, মাকে এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এ ব্যাপারে বাবা মাকে অধিক সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ পরিবার হলো শিশুর প্রথম প্রতিষ্ঠান। পরিবার নামের প্রতিষ্ঠান থেকেই শিশু সর্বপ্রথম সব ধরনের শিক্ষা লাভ করে। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সটা বাচ্চাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়স। বাচ্চাদের চরিত্র গঠনের উপযুক্ত সময় থাকে এটি। কিছু বিষয় আছে যা প্রতিটি বাচ্চার শেখা উচিত।

১। সততা
সত্য কথা বলা শিখান। যদি সে মিথ্যা বলে সেটি নিয়ে খুব বেশি রাগারাগি করবেন না। বরং কিভাবে সে সত্য কথা বলবে সেটি তাকে শিখান।

২। গোছালো মনোভাব
শিশুকে ছোট থেকেই গোছালো হওয়ার শিক্ষা দিন। খেলাধুলার পর নিজের খেলনা, হাঁড়ি পাতিল যেন নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখে সেই শিক্ষা দিন। আপনার সন্তানকে শৈশব থেকে সালামের সাথে পরিচিত করে তুলুন। শুধু তাই নয়, সন্তান আপনাকে দেখে শিখবে। তাই আপনিও অন্যদের সালাম দিন।

৩।ধন্যবাদ দেওয়া
আপনার সন্তানকে শৈশব থেকে ধন্যবাদ শব্দের সাথে পরিচিত করে তুলুন। কারো কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করলে তাকে ধন্যবাদ দিতে হয় এই শিক্ষা ছোট থেকে সন্তানকে দিন। ধন্যবাদ দেওয়া নিতান্তই ভদ্রতা। উন্নত দেশে সন্তানকে শৈশব থেকে ধন্যবাদ দেয়ার ব্যাপারে সচেতন করা হয়। শুধু তাই নয়, সন্তান আপনাকে দেখে শিখবে। তাই আপনিও অন্যদের ধন্যবাদ দিন। আপনার সন্তান তার সহপাঠী, বন্ধু বা অপরিচিত কারো কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করার আগে প্লিজ বা দয়া করে শব্দের ব্যবহার যেন করে তা শেখান।

৪। নিজেকে পরিষ্কার
প্রতিদিন নিয়মিত গোসল করার অভ্যাস আপনার শিশুকে রাখবে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ। টয়লেট থেকে এসে বা খাবার খাওয়ার আগে হাত ধোয়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রাণী বা ময়লা স্পর্শ করার পরও হাত ধুতে হবে। ছোট বয়সে যদি বাচ্চারা দায়িত্ব নেওয়া শিখে যায় তবে তারা একজন দায়িত্ববান মানুষ হয়ে গড়ে উঠে। ছোট ছোট কাজ যেমন নিজের খেলনাটা ঠিকমত দেখে রাখা, ঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখা, ময়লা কাপড়টি লন্ড্রি বাস্কেটে রাখা।

৫।কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
শিশুকে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। উপকারীর উপকার স্বীকার করা ভালো গুণ। উপকারীর উপকার স্বীকার অবশ্যই করা উচিত। বিশেষ করে কোন বন্ধু তাকে পেন্সিল দিয়ে উপকার করলে বা অন্য কোনোভাবে উপকার করলে তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়।

৬। দাঁত মাজার সংকল্প
বাচ্চারা দাঁত মাজাকে খুবই বিরক্তিকর মনে করে, একবারও করতে চায় না। এই অভ্যাসটাকে একটু মজার করতে তাকে শিশুসুলভ ব্রাশ ও পেস্ট কিনে দিন। সংকল্প ছাড়া কোন বাচ্চা তার কাজে সাফল্য অর্জন করতে পারে না।

৭। অন্যকে সহযোগিতা
আপনার শিশুর জানতে হবে কেন হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে নিতে হয়। তাকে বুঝিয়ে বলুন কিভাবে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে বিভিন্ন অসুখের রোগ-জীবাণু। তাই খেয়াল রাখবেন ওর কাছে যেন সব সময় টিস্যু বা রুমাল থাকে।

৮। সম্মান
এটি খুব জরুরি একটি বিষয়। বড়দের সম্মান করার পাশাপাশি ঘরের গৃহকর্মীকেও সম্মান করা শিখান। অনেক সময় বড়দের দেখাদেখি বাচ্চারা ঘরের গৃহকর্মীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। তাই গৃহকর্মীর সাথে খারাপ ব্যবহার করার আগে একবার ভাবুন আপনার বাচ্চাটিও কিন্তু এটি শিক্ষা পাচ্ছে।

আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। আর এ আগামী দিনের ভবিষ্যৎ যেন সুস্থ, সুন্দরভাবে বেড়ে উঠে এবং সুচারু সম্পন্ন কাজ যেন করতে পারে সেটি আন্তরিকতা দিয়ে শিখাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে সহযোগিতার স্বভাব গড়ে তুললে সে অনেক অনাকাঙ্খিত থেকে বেচেঁ থাকবে। বিভিন্ন রকম খেলার মাধ্যমে বা পুরষ্কারের বিনিময়ে তাদেরকে এই ব্যাপারে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

হ্যাপির প্রথম ছবি শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হলো

Syed Hasibul

হোটেলে ভারতীয় অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত লাশ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

Adnan Opu

হেলমেটবিহীন হিরো আলমকে আটকালো পুলিশ