রাজনীতি

বিএনপিতে আর কখনও ফিরবেন না’কন্ঠশিল্পী মনির খান

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী কন্ঠশিল্পী মনির খান। মা-বাবার দোয়া নিয়ে ভোটের যুদ্ধে নেমে ছিলেন নেমেছিলেন তিনি। প্রচারণায় যখন ব্যস্ত তখন শুনতে হল দু:সংবাদ।

শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেলেন না তিনি। তার পরিবর্তে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি মতিয়ার রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আর এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই গায়ক।

রবিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মনির খান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে সবরকম স্বার্থের বাইরে রেখে রাজনীতিতে এসেছি আমি। দলের ক্রান্তিলগ্নে মাঠে থেকেছি। কাজ করেছি। কিন্তু দিনের পর দিন এতো অনিয়মের মধ্যে থাকা যায় না। তাই দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মনির খান বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলো। এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে উৎসব আমেজে আমি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আমাকে সরিয়ে দেয়া হলো। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

নিজের অভিমান প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শিল্পীরা অনেক সমালোচনা মাথায় নিয়ে রাজনীতিতে আসি। দলের কাছে যদি এর সঠিক মূল্যায়ন না পাই তবে কেন থাকবো। আমি ভেবে চিন্তেই এই সিদ্ধান্তে নিয়েছি।’

রবিবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন তিনি জানান, মনোনয়ন না পাওয়া ও দলীয় বিশৃঙ্খলাসহ নানা কারণে বিএনপি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মনির খান বলেন, আজ বিভিন্ন অজুহাতে আমার এলাকার জনগণকে এবং আমাকে জাতীয় নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। এমন অবস্থায় আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রাণের দাবির সঙ্গে একাকার হয়ে বিএনপির সব সাংগঠনিক পদ পদবী থেকে ইস্তফা দিলাম।

সংবাদ সম্মেলনে মনির খান বলেন, আমি বাংলাদেশের একজন জাতীয় সংগীত শিল্পী। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) মহাসচিব হিসেবে দলে যোগদান করি। পরবর্তীতে আমার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। সংগীত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আমি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বেগম খালেদা জিয়া আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার নির্দেশনা দেন। আমি সবসময় এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনসাধারণের পাশে থেকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছি।

রাজনীতি না করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আবার সংগীত চর্চা শুরু করব। মাঝখানে যে কটা দিন, যে কটা বছর রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হবার পর কেটে গেছে, এটি আমার জীবনের অ্যাক্সিডেন্ট ছিল। আমার ভুল ছিল। এই ভুলের জন্য আমি বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

বিএনপি আর ফিরবেন জানি তিনি বলেন, আমি অতীতের ন্যায় আগামীতেও সাধারণ নাগরিক হিসেবে এলাকার জনগণ ও দেশবাসীর পাশে থাকব। আমি আজ থেকে কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত নয়, একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে পূর্বের ন্যায় সংগীত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাব। আমি সবার দোয়া চাই। আমি গানের মানুষ প্রাণ খুলে গান গাইতে চাই। আমি আর কখনও দলে ফিরব না।