খেলাধুলা

মোহাম্মদ মিঠুন কে বাদ দিয়ে চার ওপেনার খেলানোর ব্যাখ্যা দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ ওপেনিং নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ দল। যেখানে কিছুদিন আগেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ২ জনকে। ওপেনিং এ তামিম ব্যর্থ হলেও একবার জীবন পেয়ে মোটামুটি ভালোই খেলেছেন লিটন দাস।তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং এর পারফর্মেন্স ধরে রাখতে পারেননি ইমরুল কায়েস।আর শেষের দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ো ইনিংস উপহার দিয়েছেন সৌম্য সরকার। ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে খেলানোর ব্যাখ্যা দিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন ছন্দে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনকে একাদশের বাইরে কারণ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জেতা প্রথম ওয়ানডেতে চোট কাটিয়ে ফেরা তামিমের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন লিটন। আগের সিরিজে লিটনের সঙ্গে ওপেনিংয়ে খেলা ইমরুল নামেন তিনে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সিরিজের শেষ ম্যাচে তিনে খেলা সৌম্য নামেন ছয়ে।

ম্যাচ শেষে মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল চার ওপেনার ও মিঠুনের প্রসঙ্গ। অধিনায়ক জানান, সবচেয়ে কঠিন ছিল মিডল অর্ডারে মিঠুন আর সৌম্যর মাঝে একজনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা।

“তামিমের সঙ্গে লিটন ওপেনিংয়ে নেমেছিল। তিনে ছিল ইমরুল। সাকিব নেমে এসেছিল পাঁচে। সৌম্যর ছয় বা সাতে ব্যাট করার কথা ছিল, সাকিব আউট হওয়ায় ছয়ে নেমেছিল।”

“ছয় বা সাতে যারা নামে তাদের শটস খেলার সামর্থ্য থাকতে হয়। মিঠুনের নাই তা না। ছয়ে মিঠুন আর সৌম্যর মাঝে একজনকে খেলানো যেত। সঙ্গে শিশিরের কথাও বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। শিশিরের জন্য স্পিনারদের বোলিং করতে সমস্যা হলে সৌম্যর কাছ থেকে কিছু ওভার পাওয়া যেত। এসব চিন্তা করেই সৌম্যকে খেলানো হয়েছে। আর ও নিজেও তো ছন্দে আছে।”

বিশ্বকাপের জন্য ধীরে ধীরে একটা কম্বিনেশন গুছিয়ে আনছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক জানান, তামিম, ইমরুল, লিটন ও সৌম্যর যে কোনো তিনজনকে দেখা যাবে টপ অর্ডারের ব্যাটিংয়ে।

“কোনো কিছুই আসলে নিশ্চয়তা দেয় না। তবে টপ অর্ডারে এই চার জনের তিন জনেরই খেলার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু এই মুহূর্তে বাইরে ওইরকম কেউ নাইও। বেশিরভাগ ম্যাচ এরাই খেলে আসছে। এদের চার জন থেকে তিন জন খেলার সম্ভাবনাই বেশি।”

ইমরুল এশিয়া কাপে ব্যাট করেছিলেন মিডল অর্ডারে। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা আছে লিটন, সৌম্যর। মাশরাফি মনে করেন, তাই চার ওপেনার খেলানোয় কোনো ঝুঁকি ছিল না।

“চারজন ওপেনার খেলানো হলেও ওদের এক বা দুই জনের এই সামর্থ্য আছে যে অন্য জায়গায় ব্যাটিং করতে পারবে। সৌম্যর ছয়, সাতে ব্যাট করার অভ্যাস আছে। ও এশিয়া কাপ ফাইনালে সাতে খেলেছে। ওর শট খেলার সামর্থ্য আছে। পেস বল সামলাতে পারে। ছন্দে আছে। ৫০ ওভারের ম্যাচে আগের তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি ছিল, যদিও এর দুইটা ছিল আনঅফিসিয়াল ম্যাচে।”

“লিটন টেস্টে ছয় নম্বরে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছে।  বিভিন্ন পজিশনে খেলার এই সামর্থ্য দলের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়। সৌম্য দুই জায়গায় খেলতে পারে বলে ওকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওর জন্য আদর্শ হচ্ছে যদি তিন বা ওপেনিংয়ে খেলতে পারে। ওপেনিংয়ের বাইরেও খেলার সামর্থ্য আছে বলে ওকে খেলানো হচ্ছে।”

এশিয় কাপে পাঁচে নেমে দুটি ফিফটি করেছিলেন মিঠুন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও খারাপ করেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। স্বল্প সুযোগে যেভাবে মিঠুন নিজেকে মেলে ধরেছিলেন তাতে তার বাদ পড়াটা অধিনায়কের কাছে স্রেফ দুর্ভাগ্য।

“মিঠুনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। যে ফর্মে ছিল সেখান থেকে খেলতে না পারা, আমি বলবো ও খুব দুর্ভাগা। ও পাঁচে ব্যাটিং করেছে, ছয়ে পারবে না তাও না। কোনোভাবেই ওকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই।”

“ও এশিয়া কাপে খুব ভালো কয়েকটি ইনিংস খেলেছে। জিম্বাবুয়ের সাথেও ও ভালো খেলেছে। ও তো দলের সাথে আছেই। ওকে আমরা এমনভাবে রাখতে চাই যেন ও নিজের জায়গায় ফিরে আসতে পারে। আমার মনে হয় মানসিকভাবে ও ঠিক আছে।”