রাজনীতি

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার রিটে আদালতের প্রতি আইনজীবীদের অনাস্থা খালেদা জিয়ার

বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে করা রিট আবেদনের শুনানির সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এখন আগামী ১৭ ডিসেম্বর অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত তিনটি রিটের শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি-না তা নিয়ে বিভক্ত রায় দেবার পর, সেটি নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির কাছে যায়।

সেটি প্রধান বিচারপতি আরেকটি বেঞ্চ, যাকে তৃতীয় বেঞ্চ বলা হয়, গঠন করে সেখানে পাঠান। ব্যারিস্টার কামাল জানিয়েছেন, এই তৃতীয় বেঞ্চের প্রতি মৌখিকভাবে অনাস্থা জানিয়েছেন তারা।

এরপর লিখিতভাবে সেটি আদালতকে জানানো হবে।

এর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি-না মঙ্গলবার তা নিয়ে বিভক্ত রায় দেয় হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ঐদিন হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নির্বাচন কমিশনকে খালেদা জিয়ার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদা জিয়ার মনোনয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

তবে অপর বিচারপতি মোঃ ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রিট আবেদনগুলো খারিজ করে দেন।।

দুর্নীতির মামলায় ফেব্রুয়ারি মাসের আট তারিখ থেকে কারাবন্দী রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তবে, ফেনী-১ এবং বগুড়া ৬ ও ৭ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছিল।

ডিসেম্বরের দুই তারিখে বাছাইয়ের সময় কারাদণ্ডের কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেয়া সিদ্ধান্তে সেই আপিল নাকচ হয়ে যায়।

ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আইনজীবীরা। বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।