খেলাধুলা

বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের উপর জঙ্গি হামলার পর থেকেই পাকিস্তানের অনুষ্ঠিত হয়নি কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তবে আস্তে আস্তে ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানের। নিজেদের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগের সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের। শুধু তাই নয় বিশ্ব একাদশের সাথে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজ দেশে আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। এরপর ইমার্জিং এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে কয়টি ম্যাচ পাকিস্তানের অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ।

দেশের মাটিতে পাকিস্তানের কাছে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পাওনা আছে বাংলাদেশের। যা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যে বেশ কয়েকবার বচসাও হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নমনীয় হল পিসিবি। তারা বাংলাদেশের পাওনা মেটাতে চায়।

আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাতিল হওয়া সফর করতে চায় পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর)  পিসিবি সভাপতি এহসান মানি সময় সংবাদকে এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের পাওনা সফরটি মেটাতে চান তারা। আগামী বছরের মধ্যেই তারা বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে বলেও জানান তিনি।

২০১৭ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ সফর করার কথা ছিল পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে পিসিবি এবং বিসিবির মধ্যে এ মর্মে সমঝোতা হয় যে, পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে দু’টি সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। তবে মাঝে দু’টি টি-২০ ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশ দলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানায় পিসিবি। সে আবেদনে তখন সাড়া দেয়নি বিসিবি। আর তাতেই বেকে বসে পাকিস্তান। ২০১৭ সালের ট্যুরটি বাতিল করে তারা।

২০০৭-০৮ সালে সবশেষ পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১১ এবং ২০১৫ সালে বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আসে পাকিস্তান। এরমধ্যে দেশটিতে আর খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দাবি ছিল, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরের বদলে পাকিস্তানে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ।

আর সে কারণেই বাংলাদেশে পরবর্তী সফর বাতিল করা হয়েছে। যদিও পিসিবির সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী, ফিরতি সফরে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল না বাংলাদেশের। তবে এবার আর কোন যুক্তিতে গেলেন না ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বর পিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হওয়া এহসান মালিক। ট্যুরটি বাংলাদেশের পাওনা ছিল এবং সেটি আগামী বছরের মধ্যেই খেলা হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ চলছে বাংলাদেশের। আগামী ২২ ডিসেম্বর তৃতীয় টি-২০’র মধ্য দিয়ে শেষ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। এরপর ৫ জানুয়ারি শুরু হবে বিপিএল। বিপিএল শেষ হতে না হতেই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে উড়াল দিতে হবে টাইগারদের। সেখানে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপরই চলে আসবে বিশ্বকাপ।

৩০ মে ইংল্যান্ডে বসছে এবারের আসর। তবে তার আগে ৫ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সঙ্গে ওই সিরিজে আরো থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অপরদিকে পাকিস্তানের ব্যস্ততা আছে। আর তাই বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারবে না দলটি। তবে বিশ্বকাপের পর দুই বোর্ডের সম্মতিতে যত দ্রুত সম্ভব সফরটি করতে চায় পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছেন এহসান মানি।