ধর্ম

বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন। দোয়া ৩টি হলো-:১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস) অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’ অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা। অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

অারো পড়ুন: স্বল্প সময়ে ৪০ লাখ নেকি লাভ করতে চান? দোয়াটি পাঠ করুন

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, যে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্যের ঘোষণা দিবে আল্লাহ তার আমলনামায় ৪০ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ লাখ পর্যন্ত নেকি দান করবেন। কোনো কোনো বর্ণনায় প্রতিদিন সকালে নামাজের পর নিচের দোয়াটি পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি হজরত তামিম দারি (রা.) থেকে বর্ণিত। একত্ববাদের ঘোষণার এ দোয়াটি তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ, ইলাহান ওয়াহিদান- আহাদান সামাদান- লাম ইয়াত্তাখিজ সাহিবাতান ওয়ালা ওয়ালাদান; ওয়ালাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ। অর্থ: আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতিত আর কোনো উপাস্য নেই।

তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। একক উপাস্য, একাই, অমুখাপেক্ষী, তার স্ত্রী-সন্তান নেই। তার সমকক্ষও কেউ নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর আমল নামায় ৪০ লাখ নেকি লিখে দিবেন। (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, তাবরানি)