খেলাধুলা

যে বোলিং রেকর্ড করে উইন্ডিজকে ২০০ এর আগেই আটকে দিল টাইগাররা

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃউইন্ডিজ-১৯৮/৯ (৫০ ওভার) (হোপ-১০৮*), (মিরাজ ২৯/৪)

মাশরাফির উইকেটঃ আগের ম্যাচে বড় জুটি গড়ে উইন্ডিজদের জয় এনে দিয়েছিলেন কিমো পল এবং শেই হোপ। এই ম্যাচেও জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন দুজন। কিন্তু ইনিংসের ৪৪ তম ওভারে কিমো পলের স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১২ রান করে বিদায় নেন তিনি। পল ফিরলেও নব্বইয়ের ঘরে ব্যাট করছেন হসেই হোপ।

সাকিবের দ্বিতীয়ঃ চেজ বিদায় নেয়ার পর ক্রিজে নেমেছিলেন ফ্যামিয়েন অ্যালেন। ইনিংসের প্রথম ১৩ বলে কোন রান নিতে না পেরে চাপমুক্ত হতে লং অন অঞ্চলে সাকিবের বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। এর পরের বলেই আবার সাকিবকে সুইপ করতে গিয়ে মোহাম্মাদ মিঠুনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি।

সাকিবের প্রথমঃ পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসা উইন্ডিজদের আরও বিপদে ফেলেছেন রস্টন চেজ। দলীয় ১৩৩ রানে সাকিব আল হাসানকে লং অফ অঞ্চলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি।

থিতু হয়ে খেলছেন হোপঃ

দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলেও উইকেট থিতু হয়ে খেলছেন শেই হোপ। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর এই ইনিংসেও ফিফটি হাঁকিয়ে বড় স্কোরের আভাস দিচ্ছেন তিনি।

মিরাজের জোড়াঃ

স্যামুয়েলস ফিরে যাওয়ার পর বল হাতে জোড়া আঘাত হানেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেমরন হেটমায়ারকে ০ রানে লেগ বিফরের ফাঁদে ফেলে চলতি সিরিজে এই নিয়ে তাঁকে ষষ্ঠ বারের মতো সাজঘরে ফেরত পাঠান মিরাজ। এর এক ওভার পর নিজের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে উইন্ডিজ দলপতি রভম্যান পাওয়েলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় করেন মিরাজ। মোট চার উইকেট নিয়ে উইন্ডিজদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ মেইডেন সহ ডানহাতি স্পিনার মিরাজের শিকার মোট ৪ উইকেট।

সাইফউদ্দিনের প্রথমঃ

শাই হোপের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়লেও পেস বোলার মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিনের বলে ১৯ রানে বোল্ড হয়ে বিদায় নিতে হয় মারলন স্যামুয়েলসকে। স্যামুয়েলসকে ফেরানোর পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

মিরাজের দ্বিতীয়ঃ

একপ্রান্তে হোপ রান বাড়িয়ে চললেও অপরপ্রান্তে ধীরগতিতে ব্যাট করছিলেন ড্যারেন ব্রাভো। কিন্তু ইনিংসের ১৪তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে বোল্ড আউট হয়ে বিদায় নেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯ রান। ব্রাভো ফিরলেও বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শেই হোপ।

ব্রাভো-হোপের জুটিঃ

মিরপুরে ১৪৬ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেছিলেন শেই হোপ। আর সিলেটের মাঠেও আগের ম্যাচের ছন্দেই রয়েছেন হোপ। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে ইনিংসের গতি বাঁড়াতে থাকেন এই ওপেনার। তাঁকে সঙ্গ দেয়া ড্যারেন ব্রাভোও ধীরগতিতে রান বাড়িয়ে চলেছেন।

মিরাজের আঘাতঃ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়তে হয়েছে সফরকারী উইন্ডিজদের। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে ওপেনার চন্দরপল হেমরাজের উইকেটটি তুলে নিয়েছেন টাইগার স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ।

মিরাজের করা বলটি কাট করতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনার। ফলে দলীয় মাত্র ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়েছে উইন্ডিজ।

​উল্লেখ্য আজকের ম্যাচে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওয়ানডেতে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হওয়া ইমরুল কায়েসকে থাকতে হচ্ছে আজ একাদশের বাইরে। আর তাঁর পরিবর্তে সুযোগ দেয়া হয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকে। অপরদিকে পেসার রুবেল হোসেনের পরিবর্তে আজ খেলছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

অপরদিকে উইন্ডিজ দল আজ খেলতে নামছে একটি পরিবর্তন নিয়ে। পেসার ওশানে থমাসের পরিবর্তে একাদশে এসেছেন ফাবিয়ান অ্যালেন।

বাংলাদেশ একাদশঃ

তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান।

উইন্ডিজ একাদশঃ

চন্দরপল হেমরাজ, শাই হোপ, (উইকেটরক্ষক), ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমায়ার, রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), রস্টন চেজ, ফাবিয়ান অ্যালেন, কিমো পল, দেবেন্দ্র বিশু, কিমার রোচ।