বিনোদন

সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি

সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। সকালে খালি পেটে ভারি খাবার খেলে উল্টো বদহজম হওয়ারই ঝুঁকি থাকে। দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো সকালের নাশতা। এই খাবারের অন্তত দুই ঘণ্টা পর আপনি ভারি খাবার দিয়ে নাশতা করতে পারেন। জেনে নিন, সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর কী খাবার খেতে পারেন আপনি-

১) খেজুর
দ্রুত শক্তি পেতে খেজুর খুবই কাজে আসে। এতে অনেকটা ফাইবারও থাকে যা হজমে সহায়তা করে। খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কার্যকরী। ডায়রিয়া ও পেট খারাপে খেজুর খাওয়া ভালো, কারণ এতে থাকে অনেকটা পটাসিয়াম।

২) কাঠবাদাম
রাত্রে পানিতে ভিজিয়ে রাখা আমন্ড বা কাঠবাদাম খেলে অনেক বেশি ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যায়। ৫-১০টি কাঠবাদাম খেতে পারেন সকালে খালি পেটে। এ সময়ে ওপরের বাদামি খোসাটা ফেলে দিয়ে খান।

৩) আমলকী
সকালে খালি পেটে টাটকা আমলকীর জুস পান করতে পারেন। তবে এরপর ৪৫ মিনিট ধরে চা বা কফি পান যাবে না। এতে যেমন অনেক ভিটামিন সি আছে তেমনি তা আয়ু বাড়াতেও কাজ করে। তা ত্বক পরিষ্কার করে, চুল সুস্থ রাখে ও চোখ ভালো রাখে।

৪) পেঁপে
খালিপেটে পেঁপে খাওয়া ভালো কারণ তা পেট পরিষ্কার করে ও হজমে সহায়তা করে। পেঁপে খাওয়ার পর অন্তত এক ঘণ্টা অন্য কিছু খাওয়া যাবে না। তা কোলেস্টেরল কমাতেও কাজে আসে।

৫) মধুর সঙ্গে হালকা গরম পানি
প্রতিদিন সকালে মধু খেলে ওজন কমে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে যকৃৎ পরিষ্কার থাকে। মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ, ভিটামিন ও এনজাইম, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

৬. তরমুজ
এই ফলটি শুধুমাত্র খালি পেটেই খাওয়া উচিত। তরমুজ খাওয়ার সেরা সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর। তরমুজে ক্যালোরি কম এবং ইলেকট্রোলাইটস বেশি। গ্রীষ্মের সকালে এই ফলটি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৭. তেতো ঘি
তেতো স্বাদের যে কোনো ভেষজ দেহকে প্রশমিত ও পরিষ্কার করে এবং জীবাণু নাশক হিসেব কাজ করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানির সঙ্গে ১ চা চামচ তেতো ঘি খেতে পারেন। তবে এটি খাওয়ার পর অন্তত আধা ঘণ্টা আর কিছু খাওয়া যাবে না। তেতো ঘি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ করতেও সহায়ক।

৮. খেজুর
খেজু্র তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে সবার সেরা। যা দিন শুরু করার জন্য জরুরি। খেজুরে আছে সহজে দ্রবণীয় খাদ্য আঁশ যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। কেননা তা পাকস্থলিতে প্রচুর পানি শুষে নেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও খেজুর বেশ কার্যকর। পাকস্থলির অস্বস্তিভাব দূর করতে এবং ডায়রিয়া নিরাময়েও খেজুরে থাকা পটাশিয়াম সহায়তা করে।

একটি অভ্যাসও আপনার স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সকালের এই সহজ অভ্যাস আপনাকে সারাদিন ধরেই রাখবে সক্রিয় এবং সতেজ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনের শুরুতে হালকা গরম পানি পান করা বা হালকা জল খাবার খাওয়ার মাধ্যমে খাওয়া-দাওয়া শুরু করলে পাকস্থলীর বিপাকীয় প্রক্রিয়া ভালো থাকে। সুত্র: এনডিটিভি