রাজনীতি

লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যা বললেন

গতকাল রবিবার বেলা ১২টার দিকে টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়া ইউনিয়নের সরাতৈল এলাকায় লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় এক দল দুষ্কৃতিকারীরা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে বহরের ৪টি গাড়ি ভাংচুর করে। এরপর দুপুর ২টা থেকে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনের রাস্তায় ধর্মঘট পালন শুরু করেন।

এরপর বেড, কাঁথা, বালিশ বিছিয়ে বসে পড়েন আওয়ামী লীগের সাবেক এই মন্ত্রী। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও একটুও নড়েননি তিনি। বরং তাঁবু গেঁড়ে, লেপ নিয়ে রাত্রিযাপনের সব প্রস্তুতি সেরে শুয়ে পড়েছেন তিনি। তিনি বলেন স্থান ছাড়বেন না দাবি আদায় না হওয়া অব্দি।

এদিকে আজ সোমবার ১৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন ও অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করছেন তিনি। এদিকে আজ জেলা প্রশাসককে পাঠানো চিঠিতে আমরণ অনশনের কথা জানিয়েছেন তিনি। তার কোনো ক্ষতি হলে নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

এদিকে চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকী লিখেছেন, ‘আমার ধর্মঘটের ১৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম একই সঙ্গে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার। আমার যদি কোনো ক্ষতি হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে বলে ঘোষণা দিচ্ছি।’ তার এই ঘোষণার পর দুপুর আড়াইটার দিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফ হোসেন খান বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী সাহেব উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তিনি ওষুধও খাচ্ছেন না। খাবার না খাওয়ায় ধীরে ধীরে তার শরীরের সুগার কমে যাচ্ছে। এতে শরীর নিস্তেজ হয়ে শারীরিক ঝুঁকি বাড়ছে।’

এদিকে আমরণ অনশন পালন প্রসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘অক্ষম নির্বাচন কমিশনারই আমাকে এমন পথে নামতে বাধ্য করলেন।’