রাজনীতি

নির্বাচনের শেষ সময় এসে জামায়াত নিয়ে যা বললেন ড. কামাল

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকফ্রন্ট গঠন করেছে বিএনপি ও জোট শরিকরা। আর এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জোটগতভাবে ভোটে লড়ছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল জোটের মধ্যে শুধু মাত্র জামায়াত ইসলামী দলগুল তেমন একট জন সমর্থন নেই। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াত ইসলামীও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করছে। এই দলটির শীর্ষ নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত।

এদিকে, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন আজীবন জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করে এসেছেন। কিন্তু এবার তার দল আর জামায়াত ইসলামী একই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। যে কারণে তাকে বহু সমালোচনা শুনতে হয়েছে।

অবশেষে বুধবার ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সঙ্গী বিএনপির সঙ্গে ভোটে অংশ নেয়ার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে- এটা জানলে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিতেন না।

জামায়াতে ইসলামীর ২২ জন নেতার বিএনপির প্রতীকে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেয়াটা বোকামি।

তিনি বলেন, ‘আমি লিখিত দিয়েছি, জামায়াতকে কোনো সমর্থন দেয়া এবং ধর্ম, মৌলবাদ, চরমপন্থাকে সামনে আনা যাবে না।’

জাতীয় ঐকফ্রন্টে এ নেতা বলেন, যদি জানতাম জামায়াত নেতারা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তাহলে আমি এতে যোগ দিতাম না। কিন্তু ভবিষ্যৎ সরকারে যদি জামায়াত নেতাদের কোনো ভূমিকা থাকে, তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একদিনও থাকব না।

বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারতকে বিএনপি বলেছে, তারা ভুল ছিল। খালেদা জিয়া যখন ভারত গেলেন, তখন তিনি তাদের এটা বলেছেন। এটা তাদের ভুল উপলব্ধির প্রক্রিয়ার অংশ, খালেদা জিয়া নিজেদের অবস্থান সংশোধন শুরু করেছেন।’

নির্বাচনে জিতলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা, এ বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, আমি, হ্যাঁ বা না বলব না। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো পদ ও বেতন ছাড়াই কাজ করতে আগ্রহী।

যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে জানিয়ে প্রবীণ এ নেতা বলেন, আমি ভোটের দিনের অপেক্ষায় আছি। ভোটের দিন একটি স্বাধীনতার দিন। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে তা হবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিন। এখন গণতন্ত্র বিপদগ্রস্ত। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে।