Notunshokal.com
খেলাধুলা

এ বছর বাংলাদেশ দলে তিন ফরম্যাট মিলে অভিষেক হয়েছে ১৯ জন ক্রিকেটার। সফল মাত্র ২ জন

২০১৮ সালটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য মোটামুটি ভালই কেটেছে। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে জয় সহ এশিয়া কাপে রানার্সঅাপ হয়েছে বাংলাদেশ। তবে নানা অনালোচিত ঘটনা অাছে এছর। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে সাকিবের ম্যাচ ছেড়ে বাইরে অাসার সিদ্ধান্ত।

অাফগানিস্থানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে হার। কোচ চান্তিকা হাথুরুসিংহের পদত্যাগ। তবে এই বছরের ক্রিকেটে অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল অভিষেক। কেনই বা হবে না আলোচনা? তিন ফরম্যাটে অভিষেকের সংখ্যা যে ১৯! যেখানে ক্রিকেটারের সংখ্যা ১৪ জন। এ বছর ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটে অভিষেক হয়েছে স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু ও অলরাউন্ডার আরিফুল হকের।

এছাড়ও  টেস্ট ও ওয়ানডেতে অভিষেক পেসার আবু জায়েদ রাহীর। এছাড়াও বছরের শুরু থেকে অভিষেক হয়েছে ১৩ জন ক্রিকেটারের। অথচ এর আগের চার বছরে তিন ফরম্যাটে অভিষেকের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬ জনের। তবে এ বছর এত অভিষেকেও আলোর মুখ দেখেছেন মাত্র দুইজন।

টেস্টে অফ স্পিনার নাঈম হাসান ও ব্যাটসম্যান সাদমান ইসলাম অনিক ছাড়া কেউ দলের আস্থা রাখতে পারেনি। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের বিকল্পরা কতটা  প্রত্যাশা মেটাতে পেরেছে তা নিয়ে আলোচনা-সামালোচনা কম ছিল না। সেইসঙ্গে প্রশ্ন আছে সামনে তাদের সম্ভাবনা নিয়েও। কেমন কাটলো এক বছরের এই অভিক্তদের?

বছরের শুরুতেই টেস্টে অভিষেক হয় সানজামুল ইসলামের। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র একটি টেস্টই খেলার সুযোগ পান তিনি। নিয়েছেন একটি উইকেট। তার আগের বছর তার ওয়ানডে অভিষেকও হয়েছিল। কিন্তু এই বছর একটি ম্যাচের পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর  টেস্ট ও ওয়ানডেতে অভিষেক হয় সিলেটের পেসার আবু জয়েদ রাহীর।

তবে যতটা প্রত্যাশা ছিল তার কাছে সেটি পূরণ করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ও দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় তার। এর পর তিন টেস্টে নিয়েছেন ৮ উইকেট। আর একই সমান টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪ উইকেট। তবে দলে নিয়মিত হতে পারেননি এই পেসার।

অভিষেকে আরেক আলোচিত ক্রিকেটারের নাম আরিফুল হক। টি-টোয়েন্টি অভিষেক দিয়ে বাংলাদেশে ক্রিকেট পথচলা শুরু করে। এরপর দল তার উপর এ বছর আস্থা রাখে ওয়ানডে ও টেস্ট দলেও। কিন্তু অরিফুল দলে জায়গা পেলে তার অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। সারা বছরে তিনি মাত্র ৯ টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেলেও টেস্টে খেলেছেন ২ ও ওয়ানডে একটি।

তবে সুযোগ পেলেও এই অলারাউন্ডার নিজের প্রতিভা দেখনোর সুযোগ পারননি তেমন। ৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সব মিলিয়ে করেছেন মাত্র ৬৯ রান। এছাড়াও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হলেও ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবে টেস্টে সুযোগ পেয়ে কিছুটা হলেও আশা দেখিয়েছেন। দুই ম্যাচে ৪ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৮৮ রান। যেখানে সর্বোচ্চ এক ইনিংসে ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর অভিষেক ছিল তিন ফরমেটেই। তার পরফরম্যান্সে ছিল আশার আলো। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। এই ফরম্যাটে নিয়েছেন ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। এরপর ওয়ানডেতে তার উপর ভরসা রাখে দল। অভিষেক হয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে এশিয়া কাপে। এরপর ৫ ম্যাচে তার শিকার ৫ উইকেট।

এছাড়াও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে  ২ ইনিংসে তার শিকার ৪ উইকেট। যদিও তার বোলিং দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি নির্বাচকরা। এরপর তাকে ডাকা হয়নি কোনো ম্যাচে। এছাড়াও ২০১৪তে ওয়ানডে ও টি- টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল মোহাম্মদ মিঠুনের। তবে তার টেস্ট অভিষেক হতে সময় লাগে দীর্ঘদিন।

এ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুযোগ হয় তার। সব মিলিয়ে ৩ ম্যাচ খেলেন তিনি। সেখানে ৫ ইনিংসে এক ফিফটিতে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩৩ রান।  এছাড়াও টেস্টে পেসার খালেদ আহমেদ, স্পিনার নাঈম হাসান ও সাদমানের অভিষেক হয়। এর মধ্যে সাদমান অভিষেকেই ফিফটি হাঁকান ব্যাট হাতে। তার চোখ দারুণ ইনিংসটি আসে ৭৬ রানের ইনিংসটি আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে।

তার আগে অভিষেক হয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে খালেদ ও নাঈমের। এর মধ্যে অফস্পিনার নাঈম ২ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট। সবচেয়ে বড় বিষয় অভিষেকেই তিনি বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। অন্যদিকে ওয়ানডেতে সবচেয়ে আলোচিত নামটি ছিল ফজলে মাহমুদ রাব্বি। কিন্তু ২৬ বছর বয়সে দলে সুযোগ পেয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ওয়ানডে ম্যাচে তিনি ফিরেছেন শূন্য রানে। তাকে ভাবা হচ্ছিল তামিম ইকবালের বিকল্প। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশায় শুরু হয়েছে তার ক্রিকেট যাত্রা। এরপর তিনি দলের আর সুযোগই পাননি। ওয়ানডেতে আরো অভিষেক হয় পেসার আবু  হায়দার রনি ও ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। রনি দুই ম্যাচে ২ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে হতাশার ব্যাটিং ছিল শান্তর। এশিয়া কাপে তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে সব মিলিয়ে ২০ রান।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে বছরের শুরুতে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অভিষেক হয়েছিল দুই তরুণ জাকির হোসেন ও আফিফ হাসান ধ্রুবর। কিন্তু তারা দু’জনই হতাশ করেছেন ক্রিকেট ভক্তদের। এছাড়াও এ বছর এই ফরম্যাটে অভিষেক হয় দারুণ প্রতিভাবান তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজের।

তবে টেস্টের এই সেরা বোলার টি-টোয়েন্টিতে এখনো নিজের জাত চেনাতে পারেননি। সব মিলয়ে টেস্ট ৮, ওয়ানডে ৫ ও টি- টোয়েন্টি অভিষেকের সংখ্যা ছিল ৬টি। তবে যতটা প্রত্যাশা নিয়ে দলে নতুন মুখের আগমন হয়েছিল তা পূরণ করতে পারেননি তেমন কেউ

আরও পড়ুন

হ্যারি কেইন,এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে

Syed Hasibul

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা অাউট। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন

হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেন মেসি। দেখুন আজকের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের ভিডিও